এক প্রশ্নে সারাদেশে পরীক্ষা হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং রাজশাহী অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অনেকেই এক প্রশ্নে সব বোর্ডে পরীক্ষা হলে প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা করেন। প্রশ্ন ফাঁস হলে কারা করতে পারে তা আমরা জানি। প্রশ্ন ফাঁস হলে যারা সংশ্লিষ্ট হবে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরো বলেন, বোর্ডগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। নিজদের বোর্ডের রেজাল্ট ভালো দেখাতে নৈতিকতা ঠিক রাখে না। আপনারা পারেন তো ১০০ এর উপরে নাম্বার দিতে চান। এগুলো বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রই নয়, এখন থেকে শ্রেণিকক্ষও নজরদারির আওতায় আনা হবে।
পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের সমালোচনা করে তিনি জানান, অনেক পরীক্ষকই নিজে খাতা না দেখে ‘হেলপার’ দিয়ে খাতা দেখান। তাই খাতা দেখা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষার খাতার নমুনা সংগ্রহ করে যাচাই করে দেখা হবে।
ডিজিটাল নকলের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, “এখন নকলের ধরন পরিবর্তন হয়ে ডিজিটাল হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ নকল চক্র থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে জেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, জেলা প্রশাসকদের সন্তানরা সাধারণত ঢাকায় পড়াশোনা করে। তবে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াতে জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্তানদের স্থানীয় জিলা স্কুলেই পড়াশোনা করার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দিয়ে টিকটক করে বেড়ায়, তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। তবে যারা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে, তাদের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার, সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা পরিষদ প্রশাসক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকসহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।