চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।
সমুদ্রের মধ্যে অবতরণের পর, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান নভোচারীদের সুস্থতা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অসাধারণ এক যাত্রা। আমরা স্থিতিশীল আছি এবং চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’
মিশনের ল্যান্ডিং ও উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ান ভিয়ারিয়াল জানান, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের উদ্ধার করে তাঁদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযানের রোমাঞ্চকর ১০ দিন শেষ করে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরলেন। ১ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মহাকাশ যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন অংশ নেন।
মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থান করার সময় পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।
এছাড়া, ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী, এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
এছাড়া, অভিযানের সময় নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।
আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসা-পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ, এবং এই ঐতিহাসিক অভিযানের সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স এবং অ্যাপল টিভিতে।
তথ্য সূত্র: এএফপি ও সিএনএন
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।