সকল মেনু

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নন পরিবার ও সহযোদ্ধারা

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ঘোষিত এই রায়কে কেন্দ্র করে পরিবার, সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রায় পাওয়া গেলেও এতে গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের শাস্তি দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে তুলনামূলক কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

আরেক সহযোদ্ধা আহমাদুল হক আলবীর বলেন, বিচার হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তার মতে, ঘটনায় জড়িত পুলিশের সংখ্যা বেশি হলেও মাত্র দুইজনের শাস্তি হয়েছে, যা হতাশাজনক। তিনি পূর্ণাঙ্গ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

মামলার অন্যতম সাক্ষী আরমান হোসেনও রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রত্যাশার তুলনায় শাস্তি কম হয়েছে। তিনি আশা করেন, আদালত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রায় হওয়ায় সন্তুষ্ট। তবে শাস্তির মাত্রা নিয়ে সহযোদ্ধারাই ভালোভাবে মতামত দিতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আবু সাঈদের ছোট বোন সুমি খাতুন বলেন, রায় হওয়ায় তারা খুশি হলেও শাস্তির পরিমাণে সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির প্রত্যাশা ছিল বলে তিনি জানান।

আবু সাঈদের বাবা বলেন, দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি এতে সন্তুষ্ট নন। তার মতে, আরও অনেকের শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

মা-ও একই সুরে বলেন, আরও বেশি আসামিকে শাস্তির আওতায় আনা হলে তারা সন্তুষ্ট হতেন।

উল্লেখ্য, এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—এএসআই আমির হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।

সামগ্রিকভাবে, রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার একটি ধাপ সম্পন্ন হলেও ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের বড় একটি অংশ এখনও প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত বলে মনে করছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top