ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে অনেক সবজির দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও এখন বেশির ভাগ মৌসুমি সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করলা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে সিমের বিচি ও গোল বেগুন। তুলনামূলকভাবে লম্বা বেগুনের দাম কিছুটা কম—কেজি ৮০ টাকা। শসার দামও প্রায় একই, কেজিপ্রতি ৮০ টাকা।
এদিকে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। জালি কুমড়া কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, আর বড় কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। পেঁপের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, ঈদ সামনে এলেই বাজারে সব কিছুর দাম বাড়ে। সবজিও তার ব্যতিক্রম নয়। কয়েকদিন আগেও যেসব সবজি ৬০–৭০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেগুলো ১০০ টাকার ওপরে চলে গেছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আরেক ক্রেতা আওয়াল উদ্দিন বলেন, মাছ–মাংসের দাম তো আগেই বেশি। তাই আমরা বেশি করে সবজি কিনে রান্না করি। কিন্তু এখন সবজির দামও অনেক বেড়ে গেছে। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়া এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেড়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ঈদের আগে সব সময়ই বাজারে চাহিদা বাড়ে। অনেকেই বেশি করে বাজার করেন। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় আমাদেরও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা জানান, গ্রাম থেকে সবজি আনা–নেওয়ার খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। তার ওপর কিছু সবজির সরবরাহও কম। এ কারণে বাজারে দাম কিছুটা বেশি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বাড়ার কারণে অনেক ক্রেতাই আগের মতো বেশি পরিমাণ সবজি কিনছেন না। কেউ কেউ এক কেজির বদলে আধা কেজি করে কিনছেন। এতে বোঝা যায়, দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায়।
ক্রেতাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদ সামনে রেখে বাজারে যে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে আপাতত স্বস্তির কোনো লক্ষণ দেখছেন না সাধারণ মানুষ।
প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ঘিরে বাজারে মুরগির চাহিদা বাড়ে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। এ বছরও ঈদ সামনে রেখে মুরগির বাজার চড়া। গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েক মাস নিম্নমুখী থাকা ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, সোনালি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৭০–১৮০ টাকা। সোনালি ২৮০–৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৭০–২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। অর্থাৎ এক সপ্তাহেই কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে।
অন্যদিকে দেশি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা।
রাজধানীর রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, রমজানের ঈদে অধিকাংশ মানুষ মুরগি খায়। রেস্টুরেন্টেও চাহিদা বাড়ে। তাই এখন থেকেই চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ ততটা নেই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মুরগি কম আসছে। আর পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ টাকা করে দাম বাড়ছে।
বাজারে অনেকদিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম নিম্নমুখী ছিল। এখন সেই দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।
রমজান শেষ হয়ে আসায় বাজারে ছোলা ও ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিনির দাম আগের মতোই ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে রয়েছে।
এ ছাড়া বাজারে কিছুদিন ভোজ্যতেলের সংকট থাকলেও এখন সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। যদিও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ক্রেতারা এক দোকানে না পেলেও অন্য দোকান ঘুরে তেল পাচ্ছেন। প্রতি লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা দরে।
বাজারে বেশ কিছু সবজির দামও কম দেখা গেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম। মূলত করলা ছাড়া অন্যান্য প্রায় অধিকাংশ সবজি ৬০ টাকার মধ্যেই কেনা যাচ্ছে।
বাজারে এখন প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মহিবুল বলেন, এখন অনেক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতা কম। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় কিছু সবজির দাম কমছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।