ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি নয়, প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে—এটাই একুশের চেতনার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় বেদি। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত অভিভাবক—সবাই সারিবদ্ধভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ও ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন নিয়ে কথা বলেন।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, একুশ শুধু একটি দিবস নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। আমি প্রতিবছর সন্তানদের নিয়ে এখানে আসি, যাতে তারা দেশের জন্মের সত্যিকারের ইতিহাস জানে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেটাই দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকাল ইতিহাস বিকৃতির প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু আমরা জানি কারা রক্ত দিয়েছে, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, কারা রাজপথে নেমেছে। তাদের অবদান খাটো করা বা আড়াল করা মানে একুশের চেতনাকে অসম্মান করা।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকাগার। এখান থেকেই বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ না হলে ১৯৭১-এর পথ এত দ্রুত তৈরি হতো না।
তার ভাষায়, যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদানকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতোই তুলে ধরতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি। “রক্ত দিয়ে যখন আমরা ভাষা পেলাম, তখন জাতি বুঝে গিয়েছিল—অধিকার আদায়ে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এরপর একের পর এক আন্দোলনের পথ তৈরি হয়েছে। তাই একুশ শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও।”
তিনি বলেন, ইতিহাসে কার অবদান কতটুকু—তা গবেষণা ও সত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুদের হাত ধরে অনেক অভিভাবক শহীদ মিনারে এসেছেন। তারা সন্তানদের ভাষা আন্দোলনের গল্প শোনাচ্ছেন, শহীদদের নাম বলছেন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শিখাচ্ছেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। একুশের এই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ইতিহাসের সত্য সংরক্ষণ ও প্রাপ্য স্বীকৃতির দাবি উচ্চারিত হতে দেখা যায় সাধারণ মানুষের কণ্ঠে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।