সকল মেনু

প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হয় কী? আইনে যা আছে

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের আকস্মিক মৃত্যু নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, প্রার্থীর মৃত্যু হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কি স্থগিত হয় এবং ভোটগ্রহণ কীভাবে এগোবে।

আইনের দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপ-ধারায় বলা আছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মারা যান, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত বা বাতিল করতে হবে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যু নির্বাচনী স্থগিতাদেশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করবেন। এর পর নতুন প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী তফসিল পুনঃপ্রকাশ করা হবে। আগের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের পূর্ববর্তী ফরম বা জামানত নতুন করে জমা দিতে হবেনা; তবে নতুন প্রার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বিধান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীর মর্যাদা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে এটি ভোটারদের জন্যও নিশ্চিত করে যে, কোনো প্রয়োজনে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকার মধ্যেই ভোট দিতে পারবেন। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি নির্বাচনের তফসিল পুনঃনির্ধারণের কারণে স্থানীয়ভাবে ভোট গ্রহণে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রশাসনিক দিক থেকে এক চ্যালেঞ্জ।

শেরপুর-৩ আসনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যেই গণবিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এই আসনের নির্বাচনী তফসিল পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, আমাদের দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রার্থীর মৃত্যু হলেও আইনের কঠোর কাঠামো প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলকভাবে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল রাখে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top