বয়াতি ও পালাকার আবুল সরকারের মুক্তি এবং মানিকগঞ্জে তাঁর ভক্তদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধুগুরুভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একটি পালাগান পরিবেশনার অংশকে কেন্দ্র করে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ বয়াতি ও পালাকাল মহারাজ আবুল সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভক্তরা মানববন্ধন করতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করা হয়। সংগঠনটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে আবুল সরকারের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পালাগান বাংলার শতবর্ষী লোকঐতিহ্য, যেখানে তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি-খণ্ডন ও প্রতীকি চরিত্রাভিনয়ের মাধ্যমে ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার প্রচার ঘটে। পালার কাঠামোয় বিপরীত চরিত্রে অভিনয় একটি প্রচলিত নান্দনিক রীতি—যা প্রাচীনকাল থেকেই লোকমুখে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য।
আশেকান পরিষদের দাবি, কিছু শিক্ষাহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মহল আবুল সরকারের পালার একটি অংশকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। বাস্তবে তিনি সুফি ধারার শিল্পী এবং তাঁর গানে আল্লাহ–রাসূলের প্রশংসা ও প্রেমই প্রধান বিষয়বস্তু। তাই উত্থাপিত অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যমূলক’ বলে তারা মত দেয়।
সংগঠনটির আশঙ্কা, একটি গোষ্ঠী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনের চার দফা দাবি
১. বয়াতি ও পালাকাল মহারাজ আবুল সরকারের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি।
২. মানিকগঞ্জে তাঁর ভক্তদের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
৩. সামাজিক নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৪. গণঅভ্যুত্থানোত্তর বিভিন্ন মাজার ভাঙচুর এবং ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এসব ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গবেষক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, বাউল মোহাম্মদ রোমেল, আবুল কাশেম, আলেয়া বেগমসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।