গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদ এমন কোনো নামসর্বস্ব বা সংগঠনতন্ত্রহীন “চিলড্রেন পার্টি”-র সঙ্গে জোট করবে না, যাদের সারাদেশে কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা ভোটভিত্তি নেই।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ফেনী শহরের সিজলার চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দলটির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশের প্রতিকূল পরিবেশে রাজপথে জন্ম নিয়েছে। দল ঘোষণার আগে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ মাঠে সক্রিয় ছিল। শেখ হাসিনা হামলা-মামলা ও নির্যাতন করেও আমাদের দমন করতে পারেননি। আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের নিজস্ব ইতিহাস আছে। সারাদেশে সাংগঠনিক কাঠামোও দৃঢ়। তাই আমরা কেবল সেই দলের সঙ্গেই জোটে যাব, যাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও গণভিত্তি আছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে দল ঘোষণার পর থেকেই আমরা বলে আসছি— দ্বিতীয় বা তৃতীয় শক্তি নয়, গণঅধিকার পরিষদ সরকার গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমরা সরকার গঠন করব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, অভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরে নিজেদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই অনৈক্য চলতে থাকলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হবে। এমনকি এতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার পথও তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আজ দেখলাম পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে না দিলে তারা নির্বাচন বর্জন করবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪শ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই। যদিও ভারতসহ কিছু দেশ তাদের ফেরাতে ষড়যন্ত্র করছে, তবু প্রয়োজনে মানুষ আবারও রাজপথে নামবে।
আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু যেই স্বপ্ন নিয়ে আমরা লড়াই করেছি, তা বাস্তবায়ন হয়নি। আগে যারা মজলুম ছিল, তারাই এখন জুলুমবাজের কাতারে। আওয়ামী লীগ যেমন দখল করেছিল, ৫ আগস্টের পরও সেসব দখলমুক্ত হয়নি— কেবল হাতবদল হয়েছে।
উচ্চতর পরিষদের সদস্য রবিউল হাসান বলেন, ড. ইউনূস রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। একসময় অনেকে বলতেন, এই সরকারকে আরও পাঁচ বছর প্রয়োজন— এখন আর কেউ তা বলছে না। কারণ এই সরকার ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ ফেনী জেলা আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান বাহার, এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সদস্য সচিব রেজাউল করিম সুজন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জিলু খান, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য লায়ন নূর ইসলাম, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল, জামায়াতে ইসলামী ফেনীর সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, এনসিপি ফেনী জেলা সংগঠক জুবায়ের, যুব অধিকার পরিষদ ফেনী জেলা সভাপতি পারভেজ, ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি গাজী বাপ্পি এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।