সকল মেনু

সচিব হলেন যুবলীগ নেতার বোন, প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তোলপাড়

বাবা রাজনীতি করতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। ভাই মনোয়ার উল আলম চৌধুরী নোবেল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। সেই পরিবার থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পদ অর্থাৎ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। পদোন্নতির পর তাকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে পদায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পরও দলটির ঘনিষ্ঠদের এমন পদোন্নতি কীভাবে হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরানার কর্মকর্তারা এসব পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন।

গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানের পদটি সচিব পদমর্যাদার। এর আগে নাজনীন কাউসার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। ২০২৩ সালে গঠিত কমিটির চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার উল আলম চৌধুরী নোবেল তার আপন ভাই। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জোবাইরা নার্গিস খান তার আপন খালা।

এদিকে আওয়ামী লীগের আমলে পরিবারের দলীয় পরিচয়ের কথা তুলে ধরে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ নাজনীন কাউসারকে ভালো পদে পোস্টিং দিতে চিঠি লিখেছিলেন। সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে লেখা সেই চিঠি এই কর্মকর্তার সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সেই চিঠিতে তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী আওয়ামী পরিবারের উল্লেখ করে তাকে ‘অর্থ বিভাগ’ অথবা ‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ’ অথবা ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে’ পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কাছে সুপারিশ করেছিলেন।

২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল লেখা চিঠিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান উল্লেখ করেন, যুগ্মসচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচিত। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫শ (পঞ্চদশ) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চা বোর্ড, প্রধান কার্যালয়, চট্টগ্রাম তিনি সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) পদে কর্মরত রয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহারের মানদণ্ডে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং সুনামের সাথে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এছাড়াও তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, নাজনীন ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্রাসেলস, বেলজিয়ামেও কাজ করেছেন। ‘পারিবারিকভাবে তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। ড. নাজনীনের বাবা ভাষাসৈনিক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এছাড়া, তার আপন ভাই মনোয়ার-উল আলম চৌধুরী নোবেল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদপ্রার্থী এবং তার আপন খালা মিজ জোবাইরা নার্গিস খান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা।’

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ড. নাজনীন প্রশাসনের একজন মেধাবী কর্মকর্তা। তিনি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হতে অর্থনীতিতে ৩টি ডিগ্রি (পিএইচডি, এমএস এবং ডিপ্লোমা) অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি অর্থনীতিতে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জন করেন। ড. নাজনীনকে তাঁর পড়াশোনার ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনা করে ‘অর্থ বিভাগ’ অথবা ‘অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ’ অথবা ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়’ অথবা ‘অন্য যেকোনো মন্ত্রণালয়’এ পদায়ন করা হলে তাঁর কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তিনি অধিকতর নিষ্ঠা। একাগ্রতাসহ স্বীয় দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top