সকল মেনু

দুই লাখ ডলার বাংলাদেশকে ফেরতের কথা জানিয়েছে ফিলরেম

untitled-1_722হটনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ প্রায় সোয়া দুই লাখ ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দেয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিপিন্সের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান-ফিলরেম। গতকাল বৃহস্পতিবার সিনেটের শুনানিতে অর্থ পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুদ্রা বিনিময়ের লভ্যাংশ থেকে এ অর্থ ফেরত দেয়ার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট সালুদ বাতিস্তা।
অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন। আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখার সাবেক কাস্টমার সার্ভিস শাখার প্রধান রুমায়াদো আগার্দো, শুনানিতে মায়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে অর্থ সরিয়ে নেয়ার কথা জানানোর পর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় মায়া দেগুইতোকে। তবে আরো আগেই কেন তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো না, এ বিষয়ে সিনেটে প্রশ্নবিদ্ধ হন আরসিবিসি’র প্রধান নির্বাহী লরেনজো তান।
পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপিন্সে আনার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়টি দ্রুতই বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফিলিপিন্স সিনেটর সার্জিও ওসমেনা। ফিলিপিন্সে রেডিওতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মায়া সান্তোস দেগুইতোর কাছে থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যথাসময়েই প্রকাশ করা হবে।
মায়ার পর এবার সিনেটের ব্লু-রিবন তদন্ত কমিটির শুনানিতে তোপের মুখে পড়েছে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেম। তদন্ত বলছে, ফিলিপাইনে পাচার হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলরেমে-ই পেসোতে রূপান্তর হয়। প্রথমদিকে এ লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করলেও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে বৃহস্পতিবার সিনেটের শুনানিতে ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট সালুদ বাতিস্তা ঘোষণা দেন, ডলার লেনদেনের লভ্যাংশ থেকে বাংলাদেশকে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেয়া হবে। আর এই সম্পৃক্ততার জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
এ বিষয়ে ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট সালুদ বাতিস্তা বলেন, আমরা দ্রুতই ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দেব। কারণ আমরা এমন কোন উৎস থেকে মুনাফা করতে চাই না, যেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। আমরা প্রমাণ করতে চাই, অবৈধ লেনদেনের সাথে ফিলরেম সম্পৃক্ত না।
আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোর পক্ষে বৃহস্পতিবারের সিনেট শুনানিতে এবার সাফাই গেয়েছেন তার আইনজীবী ফার্দিনান্দ টোপাইকো। ৫ ফেব্রুয়ারি জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোর ব্যক্তিগত গাড়িতে প্রায় ২ কোটি পেসো সরিয়ে নেয়ার সময় ব্যাংকের উল্টোদিকের রাস্তায় উইলিয়াম সো গো’র ব্যক্তিগত গাড়িটি পার্ক করা ছিলো বলেও দাবি করেছেন তিনি। এছাড়াও আরবিসির ব্যাংকের জুপিটার শাখার অন্যান্য কর্মকর্তারা এই অর্থ পাচারের সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন ফার্দিনান্দ টোপাইকো। এজন্য আরও অনুসন্ধান, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top