জাতীয় লিড নিউজ

জটিলতার সমাধান হলেই ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ফাইল ফটো
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ফাইল ফটো

নিউইয়র্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫, নিরাপদনিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে কিছু আইনগত সমস্যা সমাধানে সরকার অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিমানের এখন পর্যাপ্ত আধুনিক বোয়িং এয়ারক্রাফ্ট রয়েছে। কিন্তু নিউইয়র্কের জে কে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চালুতে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি রোববার এখানে হোটেল হিলটনে তাঁর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ শাখা আয়োজিত এক সংবর্ধনায় ভাষণকালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ফলপ্রসূ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ তার নিজের শক্তিতে দাঁড়াতে চায়- এ কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি সবখানে- সব সময় দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনে যাদের কোনো অবদান নেই, দেশের প্রতিও তাদের কোনো দরদ থাকবে না। তারা দেশকে ধ্বংস করতে চায়।
ব্রুকলিন থেকে নির্বাচিত মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইভেট ক্লার্ক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আবদুস সোবহান গোলাপ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন দত্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ও শাহরিয়ার আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাগণ এ বছর পরিবেশের ওপর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানীদের মতো খালেদা জিয়া দেশকে ধ্বংস করতে চায়। বিএনপি চায় না দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক, মেয়েরা স্কুলে যাক, নারীরা স্বাস্থ্যসেবা ও যুবকরা চাকরি পাক্। বিএনপি তাদের ২০০১ থেকে ২০০৬ শাসনামলে সর্বক্ষেত্রে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে দেশকে পেছনে ঠেলে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁকে ব্রিটেন থেকে দেশে ফিরতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা জাতি গঠনের সব কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে দেশের সাফল্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত যে ভারতীয় পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাসে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবশ্যই নিজস্ব বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে এবং এ দেশ অন্যদের সহায়তায় বেঁচে থাকতে জন্ম নেয়নি।
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের নিরলস প্রয়াস সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে অঙ্গীকারাবন্ধ। দেশের কোথাও কোন বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না।
তিনি বলেন, দেশের প্রতি বিএনপি ও জামায়াতের কোন দরদ নেই। ২০১৫ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলনে তারা বাঙালি জাতিকে নির্মূল করতে পাকিস্তানী শাসকদের ‘পোড়ামাটি নীতি’ গ্রহণ করেছিল। বিএনপি-জামায়াত দেশের অস্তিত্বকেই ধ্বংস করতে চায়।
বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, বাস জ্বালিয়েছে এবং পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে হাজার হাজার মানুষকে আহত করেছে। হাজারো মানুষ তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছে। গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াত যে ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে কোন মানুষ তা করতে পারে না।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর তাদের এই মর্যাদা ভূলুন্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান সংবিধান লংঘনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেন। তিনি দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করতে সব কিছুই করেছেন ।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক মানুষ যে কোন হত্যাকান্ডের বিচার চায়। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলো কেবল আমার ক্ষেত্রে। সংবিধানে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স যুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ২১ বছর দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। খুনিদের বিভিন্ন বিদেশী মিশনে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং আমরা দু’বোন অনেক বছর দেশে ফিরতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর অনুরক্ত বাংলাদেশের মানুষ খুনিদের ঔদ্ধত্য দেখে নিরবে চোখের পানি ফেলেছেন।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর সম্পর্কে তিনি বলেন, দু’জন খুনি কানাডায় এবং একজন যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপন করে আছেন। অবশিষ্টরা পাকিস্তানের কোনো আবাসে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন। এ ছাড়া ধৃত খুনিদের শাস্তি দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যারা নারী নির্যাতন করেছে, জনগণের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়েছে এবং পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগিতা করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনেছিল সরকার। কিন্তু জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করে তারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সহায়তা পেতে থাকে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। আন্দোলনের নামে তারা মূলত গরীব ও মধ্য আয়ের পরিবারের চলাচলে ব্যবহৃত যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে। নির্বাচন বানচালে ব্যর্থ হয়ে তারা সাধারণ মানুষ, প্রিজাইডিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং প্রায় ৬শ’ স্কুল ভবন জ্বালিয়ে দেয়।
মার্কিন কংগ্রেস ওম্যান ইভেট ক্লার্ক তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের মানুষের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে বলেন, একজন জ্যামাইকান প্রবাসী হিসেবে তিনি প্রবাসীদের নিজ দেশে তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য উৎকন্ঠার বিষয় বুঝতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ পরিবেশ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ অর্জনের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেস ওম্যান বলেন, শেখ হাসিনা কেবল আপনাদের গর্ব নয়- তিনি আমাদেরও গর্ব। তিনি আমাদের সবার চ্যাম্পিয়ন। এই পুরস্কার অর্জন আমার কাছে বিস্ময়ের নয়। তাঁর দূরদর্শিতা ও কর্মপরিকল্পনার জন্যই তাঁকে এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেয়া হয়েছে- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আপনাদের সমর্থন থাকা উচিত।-বাসস