হটনিউজ স্পেশাল

‘বিয়ের বয়স ১৬ করা হবে আত্মঘাতীর সমান’

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ৬৮টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ এর ১৬ নং ধারায় বিশেষ বিধান রেখে বিয়ের বয়স ১৬ করা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৮ বছরের নীচে কন্যাশিশুর বিয়ের বিশেষ বিধান রাখলে তা হবে আর্ন্তজাতিক শিশু অধিকার সনদ (সিআরসি), আর্ন্তজাতিক সিডও সনদের সাথে সাংঘর্ষিক। ফলে অনতিবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ (খসড়া) ১৬ নং ধারায় বিশেষ বিধান বাতিল করে কন্যাশিশুর বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে নূন্যতম ১৮ বছর রাখতে হবে।
‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ এর ১৬ নং ধারার বিশেষ বিধান বাতিল করে কন্যা শিশুর নূন্যতম বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবিতে’ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী শ্রমিক জোটের আহবায়ক আফরোজা হক রিনা। বক্তব্য রাখেন, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, কর্মজীবী নারী’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক মালেকা বানু, উইমেন ফর ইউমেন’র সভাপতি জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক, ব্র্যাকের প্রতিনিধি চিররঞ্জন সরকার, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’র নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।
সালমা আলী বলেন, ১৮ বছরের নিচে বিয়ে মানেই ওই শিশুটিকে বিয়ের নামে ধর্ষণ করা। আর সরকার যদি ১৬ বছর বয়ে কন্যাশিশুকে বিয়ে দেয়ার বৈধতা করে দেয় তাহলে তা হবে বর্বর, নেক্কারজনক। সরকার নারী উন্নয়নের নামে নারীদের জীবন যাত্রাকে ধ্বংস করে দেবে।
আয়শা খানম বলেন, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে অর্থনৈতিকভাবে পায়ের নীচে মাটি থাকবে না। ধর্ষণ আর নির্যাতন বেড়ে আক্রান্তদের ওসিসিতে ঠাঁই হবে না। একটি দুষ্টচক্র সরকারের সফলতা নসৎসাত করতে এমন আইন করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৬ বছরের কন্যাশিশুদের বিয়ে দেয়া হলে মাতৃমৃত্যুর হার বাড়বে, শিশুর ঘরে শিশু জন্ম নেবে।
শাহিন আনাম বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেয়াকে দেশের সাধারন মানুষ ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী উন্নয়নে বিশ্বাসী, সেই প্রধানমন্ত্রী এমন নারী ধ্বংসী সিদ্ধান্ত কখনোই নিতে পারেন না।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ১৮ বছরের নিচে বিয়ে মানেই স্বাধীনতার চেতনাকে বিশ্বাস না করা, আত্মঘাতীর সমান। বিয়ের বয়স নিশ্চয় ১৮ রাখতে হবে, নতুবা দেশের মানুষ আন্দোলনে রাস্তায় নামবে।