খুলনা ধর্ম প্রধান খবর যশোর

যশোররে আর্থাভাবে বিলুপ্ত হতে বসেছে হরিজন মন্দির

indexআব্দুল ওয়াহাব মুকুল, যশোর থেকে: শুধুমাত্র অর্থের অভাবে বিলুপ্ত হতে বসেছে প্রায় অর্ধশত বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী শীতলা মন্দির। যশোর শহরের মনিহার মোড় সংলগ্ন ঢাকা রোড তালতলা হরিজন পল্লীতে অবস্থিত এ মন্দিরটি। ১৯৭৩ সালে রমেশ হরিজন, ধ্বনী দুলাল, ভুট্টা লাল, কার্ত্তিক সহ আরোও কয়েকজনের প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয়েছিল। তারা বলেছেন, মন্দিরটি হরিজন পল্লীতে অবস্থিত হওয়ায় এখানে যেন কারোও নজর পড়ে না। এটি থেকে যায় লোক চক্ষুর অন্তরালে। সমাজে আমরা সর্বদায় অবহেলিত হয়ে জীবন যাপন করে আসছি। সকলের কাছে আমরা ডোম নামে পরিচিত। পৌরসভার ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে থাকি। আমরা সমাজের চোখে নীচু স্থানেই থাকি।
কিন্তু কখনো কি কেউ ভেবে দেখেছে আজ যদি আমরা না থাকলো শহরের কি হাল হতো-? শহরতো নোংরা আবর্জনায় ভরে থাকতো। আমি আপনি সহ সমাজে যারা একটু ভালো অবস্থায় জীবন যাপন করে থাকে, তারা কেউ ভালো থাকতে পারতো না।
সমাজে সুষ্ঠ বসবাসকারীরা অনেকে বলেছেন, আমরাতো নোংরা আবর্জনা দেখলে নাক শিটকাতে শিটকাতে কোন রকম জায়গাটি পেরুতে পারলে বাঁচি। কিন্তু তারা এসকল কাজ করে আমাদেরকে নির্মল, সুস্থ ও পরিস্কার পরিবেশ নিশ্চিত করে। তারা শহরে নির্বিঘেœ চলাফেরা করার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিনিময়ে তারা যে পারিশ্রমিক পায় তা খুবই সীমিত।
হরিজন নেতারা বলেছেন, যে তারা সর্বোচ্চ বেতন পায় তিন হাজার টাকা যারা কিনা ময়লা ফেলার গাড়িতে কাজ করে। আর অন্যরা একহাজার একশত টাকা। তাদের এ সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যায়, তবুও তাদের মনের ভেতর রয়েছে ধর্মের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাইতো তারা তাদের সীমিত আয়ের থেকে নিজেদের উদ্যোগে মন্দিরের জন্য দুইটি কলম দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু তাদের এই মন্দিরটি নির্মাণ করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রমেশ হরিজন মোবাইল নম্বর ০১৭৯৩-৬৩১৫৯৪, সাধারণ সম্পাদক কোমল হরিজন, মোবাইল নম্বর ০১৯৬৪-৯৩৭৭৫১, সাথে রয়েছেন প্রিতম, অনুপ সহ আরোও কয়েকজন কার্য নির্বাহি সদস্য। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রমেশ হরিজন ও সাধারণ সম্পাদক কোমল হরিজন জানান, এ মন্দিরটি আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনদের কাছে একটি পবিত্রতম স্থান। বর্তমানে জরাজীর্ণ এ মন্দিরটিতে খোলা চালা নির্মান করে পূজা অর্চনা করা হচ্ছে। প্রতিবছর আমরা অতি কষ্টে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকি। কিন্তু অর্থের অভাবে পুরনো মন্দিরটির সার্বিক উন্নয়ন কাজ করতে পারছি না। এতে করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটছে।
তারা বলেন মন্দিরের বয়স প্রায় অর্ধশত বছর গত হলেও আমরা কোন সরকারি অনুদান বা বড় কোন দাতা পায়নি যার কারনে মন্দিরটি আজ প্রায় বিলুপ্তের পথে। জরাজীর্ণ অবস্থায় কোন রকম গাছের তলায় চটের ছাউনিতে স্মৃতি হয়ে আছে মন্দিরটি। অনেকে এখানে ছোট পরিসরে সহযোগিতা করেছে যার পরিমান কেউ এক বস্তা সিমেন্ট, কেউ একশত টাকা আবার কেইবা দুইশত টাকা সর্বোচ্চ।
তাদের বিশ্বাস আছে যে সর্ব স্তরের জনগণ যদি তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা তাদের এই মন্দিরটি পুণরায় নির্মাণ করতে পারবেন। কমিটি ও পল্লীর সকল বাসীন্দারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে সাধারণ মানুষ তাদের খুব ভালোবাসে। তাই তারা তাদের প্রাণের দাবি এই শীতলা মন্দিরটি পুণরায় নির্মানের জন্য সর্ব স্তরের মানুষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন সকলে তাদের অনুদানের হাত প্রসারিত করে।
মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্য সহ ধম মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের নিকট তাদের দাবি যেন তারা একটু সুন্দরভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে সেই দিকে যেন সদয় দৃষ্টি দেওয়া হয়। সাথে সাথে সরকারী অনুদানে বিলুপ্তির স্থানে নতুন করে মন্দির স্থাপনে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।