অপরাধ কুড়িগ্রাম রংপুর

এবার ইনডেক্স জালিয়াতি!

indexসাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ, ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ হরহামেশাই পাওয়া যায়। কিন্তু একজন চাকরিজীবির ইনডক্স (পরিচয় নম্বর) জালিয়াতির ঘটনা হয়তো কেউ জানেন না। এমনই এক অভিযোগ পাওয়া গেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রার বিরদ্ধে। ওই স্কুলের এমএলএসএস তপশ্রী নামের এক চাকরিজীবির ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করে বেতনভাতা ভোগ করছেন একই স্কুলের সহকারি শিক্ষক আব্দুর রউফ নামের এক শিক্ষক। এর ফলে ওই প্রকৃত ইনডেক্সধারী তপশ্রী অবসর গ্রহণ করেও তার গ্রাচুটির (শিক্ষক/কর্মচারীর কল্যান ফান্ডের) টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই স্কুলের এমএলএসএস তপশ্রী’র ইনডেক্স নম্বর ৩৮৩৫০৩। তিনি গত ২০০৫ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং পরবর্তিতে মৃত্যু বরন করেন। এ সুযোগে প্রধান শিক্ষক আর ওই সহকারি শিক্ষক যোগসাজেস করে ওই ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করেন। ওই ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে সহকারি শিক্ষক আব্দুর রউফ সরকারি বেতনভাতা উত্তোলন করছেন। এদিকে প্রকৃত ইনডেক্স নম্বরধারী তপশ্রী’র সন্তানেরা মা’র গ্রাচুট্যির টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। তপশ্রী’র পুত্র ভোলা নাথ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা’র নামের শিক্ষক/কর্মচারী কল্যান ফান্ডের টাকার জন্য ১০ বছর থেকে ঘুরছি। কিন্তু কোনো টাকা পাচ্ছি না। সবাই কয় মা’র ইনডেক্স নম্বর নাকি আরেক জনের নামে হয়ে গেছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল কবীর জানান, সরকারি একজন চাকরি জীবির পরিচয় হলো ইনডেক্স নম্বর। একজন চাকরি জীবি যতদিন চাকরি করবেন ততদিন ওই ইনডেক্স নম্বরও বেঁচে থাকবে। চাকরিজীবি অবসর গ্রহণের পর বা মৃত্যু বরণ করলে তার ইনডক্স নম্বর বিলুপ্ত হযে যাবে। একজনের ইনডেক্স নম্বর কখনও অন্যের নামে হতে পারে না। শিক্ষক/কর্মচারীদের ইনডেক্স নম্বর বসায় শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তর। ইনডেক্স নম্বর ছাড়া কোনো চাকরিজীবির সরকারি বেতনভাতা উত্তোলন করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘সিজি জামান স্কুলের প্রধান শিক্ষক আর ওই সহকারি শিক্ষক কিভাবে ইনডক্স নম্বর জালিয়াতি করার ঘটনাটির সত্যতা রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবদেন দেয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের এক শিক্ষক জানান, রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের স্টাফিং প্যাটান (শিক্ষক/কর্মচারী বিবরনী) বর্হিভূত ভাবে সহকারি শিক্ষক পদে আব্দুর রউফকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়ম বর্হিভূত হওয়ার কারনে ওই শিক্ষকের বিলবেতন হচ্ছিল না। আর তখনি ওই ইনডেক্স জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে প্রধান শিক্ষক। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার ইনডেক্স নম্বর অন্যকারো ছিল না কিনা তাও আমি বলতে পারব না। আমাকে স্কুল কৃর্তপক্ষ নিয়োগ দিয়েছে।’

ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা বলেন, ‘একজনের ইনডেক্স নম্বর আমরা কিভাবে জালিয়াতি করব। ইনডেক্স নম্বর বসায় ডিজি (মহাপরিচালকের দপ্তর) অফিস। তারা কিভাবে দিয়েছে সেটা তো আমি বলতে পারব না।’