অপরাধ চট্টগ্রাম চাঁদপুর জাতীয়

চাঁদপুরের হাইমচরে পুলিশের ভয়ে কৃষকলীগ নেতা

unnamedশাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর: পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী গ্রামের ইব্রাহিম ভূইয়ার বাড়িতে এক ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকার নারী পুরুষ সবার মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক ভর করেছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ কোনো কথা বলছে না। অপরিচিত মানুষ হলে মোটেই কথা বলছে না। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে একজন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী ধরতে গিয়ে পুলিশ এতো নাস্তানাবুদ হবার বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের ভাষ্য ও তথ্য মতো, গত ১৭ আগস্ট মাদক উদ্ধার করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় উপজেলা সদরে অবস্থিত আলগী বাজার থেকে রিপন ও তেলিরমোড় এলাকা থেকে বিল্লাল নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রিপন ও বিল্লাল জানায়, তারা ৩ নম্বর  আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলগী গ্রামের হাইমচর উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকের জসিম ভূঁইয়ার কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেছে। এরপর হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুছের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কালাম, আনোয়ার ও সিপাহী আব্দুল হালিমসহ পুলিশ সদস্যরা জসিমকে আটকাতে তার বাড়িতে রাত ১১টার দিকে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের বেশির ভাগ সদস্য ছিল সিভিল পোশাকে। এ অবস্থায় পুলিশ জোর করে জসিমের ঘরে ঢুকতে চাইলে ঘর থেকে জসিমের স্ত্রী ডাকাত বলে চিৎকার দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন এসে পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালালে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে থানায় চলে যায়। পরে রাত তিনটার দিকে পুলিশ সদস্যরা জসিমের বাড়িতে আবারো অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ি থেকে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মাদকের খোঁজ করতে গিয়ে জসিমের ঘরের সব তছনছ করা হয়। বাড়ির লোকজনের অভিমত, পুলিশ রুদ্রমূর্তি ধারন করে অভিযান চালাতে যায়। এমন কী তল্লাশীর সময় বিভিন্ন মালামাল লুটপাটেরও অভিযোগ করেন তারা। অথচ দীর্ঘ অভিযান শেষে জসিমের ঘর থেকে কোনো মাদক দ্রব্য কিংবা নিষিদ্ধ কোনো দ্রব্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ ঘরের ভেতরে যেন এক যুদ্ধবিদ্ধস্থ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে আসে। এখন অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, পুলিশি আতঙ্কে ঘরের দরজা কিংবা সন্ধ্যা প্রদীপ দেয়ার মতো কেউ নেই।
জসিমের স্ত্রী রুমা বেগম মুঠোফোনে বলেন, সিভিল পোশাকে এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে কিছু লোক ঘরের দরজা ধাক্কাতে থাকে। ঘরের ভেতর থেকে দরজা না খুললে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে। কিন্তু তাদের গায়ে পুলিশের পোষাক না থাকায় আমরা ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করি। এ সময় বাড়ির লোকজন এসে তাদের উপর হামলা চালালে পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে জানতে পারি কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আমাদের ঘরে যে তান্ডব চালানো হয়েছে, তা অবশ্যই পুলিশ করনি। পুলিশের সাথে থাকা অন্য লোক দিয়ে করানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই বলেছেন, পুলিশ এতো বড় অভিযান পরিচালনা করলো অথচ মাদকের অস্তিত্বও পেলো না। এটা কেমন কথা? কৃষকলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একটা মাদক মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের হয় গত ২৯ জুন।
কথিত ইয়াবা ব্যবসায়ী জসিম হাইমচর উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গ্রুপিং রাজনীতিতে জসিম একটি গ্রুপের পক্ষে সক্রিয় কাজ করায় একটি মহল এ সুযোগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ ঘটনার সাথে গ্রুপিং রাজনৈতিক কর্মীদের জড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে কানাঘুষা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ১৮ আগস্ট রাতে হাইমচরে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে পুলিশি অভিযান এবং পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় চাঁদপুর জেলা যুবলীগ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে  দাবি করেছে, উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে একটি মহলের অশুভ ইঙ্গিতে ওই মামলায় উত্তর আলগী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ মাঝিকে আসামি করা হয়েছে। নিরপরাধ এ নেতা-কর্মীদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনায় চাঁদপুর জেলা যুবলীগ এর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। সে ক্ষেত্রে এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এ বিষয়ে হামইচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মো. ওয়ালি উল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে। ৮ আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জসিমের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে বলেন, তার বিরুদ্ধে একটা মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া জনশ্রুতি আছে সে মাদক ব্যবসা করে।