নওগাঁ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গরম রডের ছ্যাঁকা

নিজস্ব প্রতিবেদক-নওগাঁ, হটনিউজ২৪বিডি.কম ১৭ জুন : নওগাঁয় শাপলা খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধুকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনসহ লোহার রড গরম করে পিঠে ছ্যাঁকা দিয়েছে তার স্বামী।
পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল গ্রামে গতকাল সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু বর্তমানে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৭নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শাপলা খাতুন সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা বলদিয়াঘাট গ্রামের একরামুল হকের মেয়ে।
অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে শাপলা জানান, এক মাস আগে পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল গ্রামের কাইয়ুমের ছেলে কোবেল (২৭)- এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই যৌতুক লোভী কোবেল ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবি করে। সেই দাবিতে নববধূ শাপলাকে শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে কোবেল।
ঘটনার দিন গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে কোবেল আবারো ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাপলাকে চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় শাপলার বাবার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানালে শাপলার ওপর এই অমানুষিক নির্যাতন চালায় কোবেল।
হাত-পা বেঁধে শাপলাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এর এক পর্যায়ে শাপলা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে সময় কোবেল লোহার রড গরম করে তার পিঠে ছ্যাঁকা দেয়। অসহ্য যন্ত্রণায় শাপলা ছটফট করতে থাকলে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
এরপর শাপলার গলায় ও হাতে থাকা দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার খুলে নেয় কোবেল। ওই অলংকার বিয়ের সময় তার বাবা দিয়েছিলেন বলে জানান শাপলা।
মঙ্গলবার সকালে জীবন বাঁচাতে শাপলা কৌশলে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে সাপাহার উপজেলার বেলডাঙ্গা গ্রামে তার নানার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ শাপলা বর্তমানে সাপাহার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হটনিউজ২৪বিডি.কম/এআর