খুলনা জাতীয় ঝিনাইদাহ

কালীগঞ্জে ঘুর্ণিঝড়ে ১০ টি গ্রাম লন্ডভন্ড

images এস,আই মল্লিক, ঝিনাইদহ: বুধবার গভীর রাতে শিলাবৃষ্টি ও ঘুর্ণিঝড়ে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের কোলা ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০ টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।ঝড়েউপজেলারকামালহাট,বিনোদপুর,কাদিরডাঙ্গা,খড়িকা ডাঙ্গা,রাকড়া,পান্তাপাড়া,রামচন্দ্রপুর,তেঘরিহুদাসহ এলাকার কমপক্ষে ১০ টি গ্রামের বসতঘর ও বিভিন্ন ফলজ,বনজ বৃক্ষছাড়াও শিলাবৃষ্টিতে সব ধরনের সবজি ও বোরোসহ ফসলী ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ২ কোটি টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানাগেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেন মোল্যা ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি, কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সরেজমিনে গেলে খড়িকাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শুকুর আলী জানান,বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তাদের গ্রামের ওপর দিয়ে প্রচন্ড গতিতে ঘুর্ণিঝড় বয়ে যায়। এ সময় ঘুর্ণায়মান বাতাসে তার নিজের বাড়ির ২ টি বসতঘর,একটি গোয়াল,রান্নাঘরসহ সব ঘরগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। এখন তার খোলা আকাশের নীচে বসবাস করতে হবে। তিনি আরো জানান,তার মত গ্রামের শাহাজান শেখ,বাবলু রহমান,আনছার আলী,সাখাওয়াত হোসেন,আব্দুল গাজী,বিপুল হোসেন,হাসিনা বেগমসহ প্রায় অধিকাংশ পরিবারেরই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একই গ্রামের বাবলুর রহমান জানান,বসতভিটে ছাড়া মাঠে তার নিজের কোন চাষযোগ্য জমি নেই। পরের ক্ষেতে কামলার কাজ করে নিজের সংসার চালিয়ে খুব কষ্ট করে টিন দিয়ে দুই কামরার একটি ঘর তৈরী করেছিলেন। কিন্ত ঝড়ে সমস্ত টিনগুলো উড়ে গেছে। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করতে হবে। কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব হোসেন জানান,ঘুর্ণিঝড়ে তার ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০ টি গ্রামের কাঁচা বসতঘর ও ফসলী ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ গ্রামগুলোর কমপক্ষে ১৫০ টি পরিবার সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাদের সবজিক্ষেত ও ফলজ বনজ বৃক্ষগুলো দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ফলে এ এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আজ পথে বসেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেন মোল¬া জানান, খবর পেয়ে তিনি  ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান,ঘুর্ণিঝড়ে এ এলাকার বসতঘর ও ফসলী ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়াতে বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছেন।