খেলা জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

সেঞ্চুরির রেকর্ড বিশ্বকাপে !

Century_record-1427654004 ক্রীড়া ডেস্ক: রেকর্ড নাকি গড়া-ই হয় ভাঙার জন্য। তবে কিছু কিছু রেকর্ড ভাঙার দৃশ্য একটু ব্যতিক্রমও হয়। যেমন ১৯৭৫ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল মাত্র ৬টি। ৪০ বছর পর ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই হয়েছে ৩৫টি সেঞ্চুরি! এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে হয় আরো দুটি। সেমিফাইনালে হয় একটি। ফাইনাল কোনো সেঞ্চুরি না হলেও চলতি বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩৮টি সেঞ্চুরি হয়েছে। যার মধ্যে দুটি ডাবল সেঞ্চুরিও রয়েছে।

প্রথম বিশ্বকাপে ৬টি সেঞ্চুরির পর, ১৯৭৯ সালে আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল মাত্র ২টি। ১৯৮৩ তে আয়োজিত তৃতীয় বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির সংখ্যা ছিল ৮টি। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয় ১১টি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ৮টি সেঞ্চুরি দেখে ক্রিকেট বিশ্ব। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয় ২১টি। ২০০৭ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল ২০টি। ২০১১ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৪টি সেঞ্চুরি হয়েছিল। এবার সব রেকর্ড ভেঙে ৩৮টি সেঞ্চুরি হয়েছে।

৩৮টি সেঞ্চুরির চারটি করেছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা (১২৪, ১১৭*, ১০৫* ও ১০৪)। তিনি বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১২৮* ও ১০৩) ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর (১৩৮ ও ১২১) টানা দুটি করে সেঞ্চুরি করে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে মার্ক ওয়াহর করা রেকর্ড ছুঁয়েছেন। দুটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান (১৬১* ও ১০৪) ও ভারতের শেখর ধাওয়ানের (১৩৭ ও ১০০)।

ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল (২৩৭*) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (২১৫)। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এ ছাড়া সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (১৭৮), স্টিভেন স্মিথ, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (১৬২*), দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা (১৫৯), স্কটল্যান্ডের কাইল কোয়েৎজার (১৫৬), শ্রীলঙ্কার লাহিরু থিরিমান্নে (১৩৯*), দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার (১৩৮*), অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ (১৩৫), ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস (১৩৩*), ইংল্যান্ডের মঈন আলী (১২৮), ইংল্যান্ডের জো রুট (১২১), দক্ষিণ আফ্রিকার জেপি ডুমিনি (১১৫*), আয়ারল্যান্ডের এড জয়েসি (১১২), ভারতের সুরেশ রায়না (১১০*), দক্ষিণ আফ্রিকার ফাপ ডু-প্লেসিস (১০৯), ভারতের বিরাট কোহলি (১০৭), আয়ারল্যান্ডের পোর্টারফিল্ড (১০৭), সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইমান আনোয়ার (১০৬), নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল (১০৫), ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেন্ডাল সিমন্স (১০২), অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (১০২), পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ (১০১*), শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে (১০০) ও ভারতের রোহিত শর্মা (১৩৭)।

দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি হয়েছে শ্রীলঙ্কা দলে। তাদের দলে আটটি সেঞ্চুরি হয়েছে (চারটি সাঙ্গাকারার, দুটি দিলশানের, থিরিমান্নে ও জয়াবর্ধনের ১টি করে)। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে হয়েছে পাঁচটি। ভারতের খেলোয়াড়রা করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা চারটি সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিনজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে দল দুটি করে সেঞ্চুরির করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। আর একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্কটল্যান্ড দলের ব্যাটসম্যানরা।

গ্রুপপর্বে অনেকগুলো সেঞ্চুরি হলেও সে অনুপাতে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সেঞ্চুরি হয়নি। যদি হতো তাহলে ২০১৫ বিশ্বকাপে মোট সেঞ্চুরির সংখ্যা হয়তো ৫০টির কাছাকাছি যেত। তারপরও যা হয়েছে সেটাও তো রেকর্ড সংখ্যক!