আন্তর্জাতিক ঢাকা

স্ত্রীকে চাকরি করতে চাওয়ায় খুন

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চাকরি করতে চাওয়ায় খুন হতে হলো এক তথ্যপ্রযুক্তিবিদের স্ত্রীকে। বিয়ের পরেও স্ত্রী চাকরি করতে চাওয়ায় । `পৌরুষে` আঘাত লাগে স্বামীর। আর তাই রাগে-উত্তেজনায় খুনই করেই ফেলেন স্ত্রীকে। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলায়। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোহিত শর্মার বয়স ৩২। তিনি চেয়েছিলেন স্ত্রী রুচি নিজের কেরিয়ার, চাকরি বিসর্জন দিয়ে বাড়িতেই থাকুক এবং ৯ বছরের ছেলেকে মানুষ করুক। শুনতে চাননি বছর তিরিশের রুচি। তাই `রাগে` অঘটন ঘটিয়ে ফেললেন। পুলিশের কাছেও রুচিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মোহিত। গাজিয়াবাদের এসপি জানায়, প্রথম মোহিত দাবি করেছিলেন বাথরুমে পা পিছলে বেসিনে মাথায় ধাক্কা খেয়ে তার স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। পরে পুলিশি জেরার মুখে স্বীকার করেন সব। বৃহস্পতিবার গাজিয়াবাদে গৌর গ্লোবাল ভিলেজ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে রুচির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় মোহিত পুলিশকে ফোন করে জানায় বাথরুমে পা পিছলে পড়ে মাথা বেসিনে লেগে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে বিছানার উপর উলটে পড়ে আছে রুচির মৃতদেহ। `ঘরের চতুর্দিক রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। বাথরুম থেকে বিছানা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল রক্ত। বেসিনটি ভাঙা পড়ে ছিল। পুলিশের দাবি, ছেলে স্কুলে বেড়িয়ে যাওয়ার পরেই সম্ভবত এই যুগলের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।

আর এখানেও হত্যার অস্ত্র ছিল ক্রিকেট ব্যাট। এই ব্যাট দিয়েই তার মাথায় আঘাত করে মোহিত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী বারবার ব্যাট দিয়ে আঘাত করার জন্যই রুচির মৃত্যু হয়েছে। এখন পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায়।

তবে রুচিকে মারার পর মোহিত তার চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকেনি বা প্রতিবেশীদেরও খবর দেয়নি। এমনকি রুচিকে হত্যার পর বিন্দুমাত্র অনুতাপও দেখা যায়নি।