অর্থ ও বাণিজ্য চট্টগাম চট্টগ্রাম প্রধান খবর সারাদেশ

অবরোধে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি টাকা

image_33211চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং টানা অবরোধে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

রোববার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে দেশের বিরাজমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও পণ্য পরিবহণ নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে সকল পক্ষকে নিয়ে মতবিনিময় করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

স্বাগত বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি বলেন, চলমান টানা অবরোধে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। আগের বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি ২০১৪ সালে ব্যবসায়ীরা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলেও ২০১৫ সালের প্রথম দিক থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আবার নতুন করে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। বছরের শুরু থেকে সারা দেশে অবরোধ, হরতাল, সহিংসতা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিনই এসএমই খাতে ১৫০ কোটি টাকা, উৎপাদন খাতে ১০০ কোটি টাকা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে ৬৮ কোটি টাকা এবং প্রতিদিন রপ্তানি খাতে ক্ষতি হচ্ছে ৬৯৫ কোটি টাকা।

চেম্বারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ স্বাভাবিকভাবে চললেও স্বাভাবিকভাবে মালামাল ডেলিভারি হচ্ছে না। ধারাবাহিক নাশকতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি পণ্য, কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য পরিবহণ অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে সাপ্লাই চেইন। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু কিছু পরিবহণ পুলিশ প্রহরায় চলাচল করলেও ভাড়া ৩ থেকে ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারার কারণে অনেক রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে।

চলমান এই অবস্থায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাইওয়েতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগ করার দাবি জানান চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টম হাউসের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্টেক হোল্ডার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও চেম্বার প্রতিনিধির সমন্বয়ে মরিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করার দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম, সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. এ কে এম. হাফিজ আখতার। এ ছাড়া সভায় র‌্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন, উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির নেতৃবৃন্দ, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, দোকান মালিক সমিতি, পরিবহণ সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।