অপরাধ জাতীয় প্রধান খবর

এখন সবার দৃষ্টি ঢাকা কারাগারের দিকে

  নিজস্ব প্রতিবেদক: সবার দৃষ্টি এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে। এই কারাগারে কনডেম সেলে রয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। যে কোন সময় তার ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে।

সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। এই প্রস্তুতির কথা জানার পর থেকে কারা ফটকের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় লেগেই আছে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বুধবার সন্ধ্যায় জানান, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জেল কোড ও আইন মেনে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কামারুজ্জামান যে সময় শুনেছেন আপিল বিভাগে তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে, সেই সময় থেকে উনার মার্সি পিটিশনের সময় গণনা শুরু হবে। অর্থাৎ সেই সময় থেকে তাকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হবে। তবে তিনি যদি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করেন তাহলে যে কোন সময় তার ফাঁসি কার্যকর করা যাবে। জেল কোডে এ জন্য সাত দিনের সময়ের কথা বলা আছে। এর থেকে বেশি সময় নেওয়া যাবে না।’

অপরদিকে একইদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘আমরা মনে করি এই রায় রিভিউয়ের সুযোগ আছে। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাইনি। কপি পেলে রিভিউর আবেদন করব। রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার আগে যেন ফাঁসি কার্যকর না হয় সেই আহ্বান জানাচ্ছি সংশ্লিষ্টদের প্রতি।’

বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্টে তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ করেছেন তার আইনজীবীরা। তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে বলেছেন, মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে। তাকে যে অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে রায় পর্যালোচনা করে তিনি তার অবস্থান তুলে ধরবেন রিভিউ আবেদনে।

এর আগে বুধবার সকালে কামারুজ্জামানের পরিবারের ৯ জন সদস্য কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে যে কোনো সময়। তাই এ মুহূর্তে সবার দৃষ্টি ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারের দিকে।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র চলছে নানা  আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা- কামারুজ্জামানের ফাঁসি কবে হবে, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে দোষ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা। সবার সামনে এখন  প্রশ্ন- কামারুজ্জামানের ফাঁসি কখন হচ্ছে, রভিউ পিটিশনের সুযোগ থাকছে কিনা, তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না?

গত সোমবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এর আগে, গত বছরের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।