জাতীয় ঢাকা রাজনীতি সারাদেশ

মন্ত্রিত্ব খোয়ালেন লতিফ সিদ্দিকী

  নিজস্ব প্রতিবেদক : অনেক জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারিত হলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে রোববার বেলা ৩টায় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্ব হারালেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর জন্য রাষ্ট্রপতি পরামর্শ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (১) দফার (গ) উপদফা অনুসারে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অন্য কাউকে অর্পণ না করা পর্যন্ত রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী এ মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবে।

রোববার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকেও বহিষ্কার করার ঘোষণা আসতে পারে ওই বৈঠক থেকে।

লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টির চূড়ান্ত রূপদানের জন্য শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ খোলা রাখা হয়।

এদিকে, রোববার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের সভা। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ সভায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে। তবে দল থেকে নাকি দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে, তা দলীয় ফোরামেই সিদ্ধান্ত হবে।