খেলা

ক্রিকেটারদের ফাঁসাতে ‘হানি ট্রাপ’!

  ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর ঘটনা নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে ম্যাচ পাতানো ঘটনা ঘটেই চলছে। খেলোয়াড়দেরকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে জুয়াড়িরা তাদের জড়িয়ে ফেলছে ম্যাচ পাতানোর জালে। কখনো টাকা, কখনো বাড়ি-গাড়ীর লোভ দেখানো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে কার্যকরী প্রলোভন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আবেদনময়ী নারীদের। আসন্ন বিশ্বকাপে সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করা হবে ক্রিকেটারদের ফিক্সিংয়ের জালে জড়াতে। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘হানি ট্রাপ’।

ম্যাচ পাতানোর বিরুদ্ধে সব সময়ই সোচ্চার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। তাই ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের জুয়াড়িদের থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিতে শুরু করেছে আইসিসি। তাদের সঙ্গে একাট্টা হয়ে এই কাজটি করছে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ। তারা জানিয়েছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে জুয়াড়িরা খেলোয়াড়দের তাদের জালে জড়াতে নানান পন্থা অবলম্বন করবে। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পন্থার নাম ‘হানি ট্রাপ’। সুন্দরী ও আবেদনময়ী মেয়েদের ব্যবহার করে খেলোয়াড়দেরকে জালে জড়িয়ে ফেলবে জুয়াড়িরা। পরে নানা দুর্বলাতর সুযোগ নিয়ে ম্যাচ পাতাতে খেলোয়াড়দের বাধ্য করবে। তাই ২০১৫ বিশ্বকাপের আয়োজক নিউজিল্যান্ডের পুলিশ খেলোয়াড়দেরকে সতর্ক থাকতে বলেছে সুন্দরী মেয়েদের ক্ষেত্রে।

কারণ, জুয়াড়িরা তাদের সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে এই সব সুন্দরী মেয়েদের ব্যবহার করবে। সুন্দরীরা নানা ছলা-কলার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করবে। আপত্তিকর ছবি অথবা ভিডিও ধারণ করবে। এরপর সেগুলো পুঁজি করে ম্যাচ পাতাবে। যা ‘হানি ট্রাপ’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে।

ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ডে এ বিষয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ এ ব্যাপারে জানায়, ‘আমরা জানি জুয়াড়িরা তাদের সবশেষ অস্ত্র হিসেবে বিশ্বকাপে সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে আসবে। ভাই বা বন্ধু হিসেবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। ঘনিষ্টতা তৈরি করবে। তারপর খেলোয়াড়দের কিছু একটা করতে বলবে। খেলোয়াড়রা যদি সেটা করতে অস্বীকার করেন তাহলে ঘনিষ্ট মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করবে। বলবে এই ছবি ও ভিডিওগুলো তোমার স্ত্রী, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের কাছে ছড়িয়ে দেয়া হবে।’

ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা জড়িত। আর সেটাকে সফল করতে জুয়াড়িদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না।