কৃষি নওগাঁ রাজশাহী

নওগাঁয় চড়া দামে সার বিক্রি

  নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রি করা হচ্ছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এই কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ৮শ টাকার জায়গায় নওগাঁর ডিলাররা ৯শ টাকা এমনকি হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। জেলা প্রশাসন বলছে, নওগাঁয় সারের কোন সঙ্কট নেই। যারা বেশি দাম নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় ২ লাখ ৩ হাজার ৮৭৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমিতে সার প্রয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ইউরিয়া ২২ হাজার মেট্রিক টন। ইতোমধ্য ডিলাররা সার উত্তোলন করে মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করেছেন। কিন্ত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ করা সার মজুদ রেখে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কৃষক পর্যায়ে সরকারি দামের চেয়ে ১শ থেকে দের’শ টাকা বেশি দাম আদায় করছে।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান ও আব্বাস আলী জানান, কাফকোর সার ৯শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর যমুনা সার আরো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার টেঙ্গ ভাংগা মোড়ের কয়েকজন কৃষক জানান, বাজারে যমুনা সারের চাহিদা বেশি থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বস্তা প্রতি যমুনা সারের দাম নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, সারের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে ডিলাররা। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কাফকো, বাফার সারের দাম নিচ্ছে ৮৮০ টাকা থেকে ৯শ টাকা বস্তা। এ সার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯৫০ টাকা বস্তা। তা ছাড়া এসব বস্তায় ৩ কেজি পর্যন্ত কম সার মিলছে।

অন্যদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেন, সার জমাট বেধে বড় বড় দলায় পরিণত হয়েছে। এই সার জমিতে প্রয়োগ করে কোন কাজ হচ্ছে না।

চাহিদা মত যমুনা সার না পাওয়ায় কৃষকদের ক্ষোভ থাকার কথা স্বীকার করে জোর তদারকি করার আশ্বাস দিয়েছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক এনামুল হক।

নওগাঁ জেলার ফার্টিলাইজার সমিতির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম জানান, বাজারে পর্যাপ্ত সারের মজুদ আছে। তবে যমুনা সার চাহিদার তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে কিছু ব্যবসায়ী সম্ভবত সুযোগ নিচ্ছে। তবে অভিযোগ পেলে ঐ সব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম নুরুজ্জামান ম-ল জানান, নওগাঁয় সারের কোন সংকট নেই।