কৃষি নওগাঁ রাজশাহী

আমন চাষের ধুম নওগাঁ বরেন্দ্র এলাকায়

 নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকা মহাদেবপুর, পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলায় চলছে আমন চাষের ধুম। আমনের জমি তৈরি, চারা উত্তোলন ও চারা রোপনের কাজে ব্যস্ত এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের সহযোগিতা করছেন নারী কৃষি শ্রমিকরা। বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর, পোরশা ও পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমনের চারা রোপণের কাজ। ইতিমধ্যেই ৬০-৭০ ভাগ জমির আমন রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট জমির চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন। এবার রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় অন্যান্য বছরের মত আমনের জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না কৃষকদের। বৃষ্টির পানিতে স্বাচ্ছন্দে আমনের চারা রোপণের কাজ করছেন কৃষকরা।

বিগত বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপনের কাজ করতে হতো। সে ক্ষেত্রে প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে সেচ বাবদ কৃষককে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হতো। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত মহাদেবপুর, পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা, নিয়ামতপুর উপজেলায় এবার এক লাখ ১৪ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

এর মধ্যে  মহাদেবপুর উপজেলায় ২৭ হাজার ৭২০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ১৯ হাজার ২৪৩ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ২৭ হাজার ১৭৫ হেক্টর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়।

তবে আমন চাষে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। অধিক ফলনের আশায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা রোপন করছেন।

এসব জাতের মধ্যে রয়েছে বিআর ১১, ব্রিধান ৩৩, ব্রিধান ৫১, ৫২, স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা ও বিনা-৭ উল্লেখযোগ্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম নুরুজ্জামান মন্ডল জানান, এ অঞ্চলে এবার আবহাওয়া অনুকুল থাকায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।