জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

লঞ্চ ডুবির জন্য দায়ী সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী

 আছাদুজ্জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম: প্রতিনিয়ত লঞ্চ ডুবিতে ঝরে যাচ্ছে শত শত প্রাণ। কিন্তু যখনই জনগণ প্রাণ নাশের বলিতে পতিত হয় তখন সাধারন মানুষের কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর কোন পথ থাকে না। অথচ আহাজারি করতে হয় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া যুদ্ধাহত সৈনিককে অথবা প্রাণ হারানো স্বজনদের। যখনই কোন ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্ম দেয় তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদেরকে নিয়ে কোন ইস্যু করার সুযোগ পায়। রাজনৈতিক দলগুলো শোক বিবৃতি দিয়ে দোষী সাব্যস্তকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্ম কি শুধু এসকল সাধারণ মানুষদের নিয়ে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার দেওয়া হয়েছে? দুর্ঘটনার রেশ কেটে গেলে আর এসবের কথা কেউ মনে রাখে না। একবারের জন্য খোাঁজার চেষ্টা করে না দোষী কোন ব্যক্তি। সম্প্রতি লঞ্চ ডুবিতে বেঁচে যাওয়া যাত্রীর ভাষ্যনুযায়ী লঞ্চে যাত্রী ছিল ৩০০ এর বেশি। কিন্তু সরকারের ভাষ্যমতে লঞ্চে যাত্রী ছিল ২০০ জন। বেসরকারীভাবে লঞ্চে যাত্রী ছিল ৩০০ জন। যে লঞ্চে কাগজ কলমে মাত্র ৮৫ জন যাত্রী ধরতে সক্ষম সেখানে ৩০০ এর অধিক যাত্রী কম কথা নয়। সরকার জবাবদিহীতা করার জন্য যে তালিকা মানুষের সামনে প্রকাশ করছে, সেটা দেশবাসীকে শান্ত্বনা দেওয়ার প্রলোভন ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? সরকার কি কখনও ভেবেছে এসমস্যা সমাধানের কথা। ভেবেছে কি দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কথা? একবার হলেও কি ভেবেছে টাকা দিয়ে শান্ত্বনা দেওয়া প্রাণ ক্ষয়ে যাওয়া পরিবারের কথা? টাকা দিয়েতো আর প্রাণের বিনিময় হয় না। যদি তাই হতো বাংলাদেশে যেসকল বরেণ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের জন্য প্রতি বছর স্মরণসভা কিংবা আলোচনা সভার প্রয়োজন ছিল না। টাকা দিয়ে আত্মত্যাগকারী মানুষের মত্যুর জন্য পরিবারকে কিছু টাকা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যেতো। তাহলে প্রতি বছর আলোচনা অনুষ্ঠান করে দেশের টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় না।  লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর কেওড়াকান্দি থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় ফেরিতে বাস গাড়ির বদলে মানুষ পারাপার। আর দুর্ভোগে পড়ে সাধারন মানুষ। সেই দুর্ভোগে পড়া মানুষদের মধ্যে আমিও একজন। মাওয়া ঘাটে লঞ্চ ডুবেছে, আর সবার চোখ তখন ঘুরছে মাওয়া ঘাটকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছে, এখানে যদি কোন দুর্ঘটনা হয় এর দায়ভার নেবে কে? নেওয়ার মত কে আছে?  আইন শৃঙ্খলা বাহিনী! আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কতটুকু বিশ্বাস করা যায়? যেখানে জনসম্মুখে মাত্র ১০ টাকার জন্য সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে দিতে কোন দিধাবোধ করে না, তারা? যারা নিজেরা বেআইনী কাজের সাথে জড়িয়ে রেখেছে তারা করবে শৃঙ্খলার কাজ। এটি কখনও সম্ভব নয়। আমার কোন প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন নেই, কারণ সবারই জানা আছে ২ টাকার জন্য এমন কোন কাজ নেই যা পুলিশ করতে পারে না। ঐদিন যাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে পড়া আমি একজন। আমি বুঝতে পেরেছি লঞ্চ ডুবির জন্য একমাত্র দায়ী সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমি ছোট্ট একটি অভিজ্ঞতার কথা বলবো। লঞ্চডুবির পর যখন ফেরিতে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করা হলো তখন হাজার হাজার লোকের চাপ বেড়েছে নদীমুখী। এমতবস্থায় লঞ্চের ঘাটের পাশে একটি ফেরি ভেড়ে। আমিসহ মোট ৩ জন গিয়েছিলাম ঐ ফেরিতে উঠতে। পুলিশের সামনে ফেরি পারাপারের জন্য কিছু লোক টাকা তুলছে। কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না যতক্ষণ পর্যন্ত জন প্রতি দশ টাকা না দিচ্ছে। টিকিট চাইতে গেলে তাকে ফেরিতে উঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ওখানে প্রায় ৭-৮ জন পুলিশ দাঁড়িয়ে, সবকিছু তারা লক্ষ করছে। জিজ্ঞাসা করেছিলাম কিসের টাকা টিকিটবিহীন আদায় করা হচ্ছে। পুলিশ নির্বাক। বাধ্য হয়ে আমরা ৩ জন টাকা দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে যেখানে ফেরিতে মানুষ দাঁড়াতে পারছেনা। সেখানে একটি মটর সাইকেল এসে উটকো জায়গা জুড়ে নিয়েছে। মটরসাইকেলটি ছিল ফেরির ঢালার উপর, ঢালা তুলতে গেলে সাইকেলটি উপুড় হয়ে পড়বে মানুষের উপর আর সেখানে হতাহতের সৃষ্টি হবে নিশ্চিত। কথাটি ভেবেও পুলিশ কেন মটর সাইকেলটির জায়গা করে দিয়েছিল পরে বুঝেছিলাম। কয়েকজন দাঁড়ানো পুলিশের বাধায় যখন মটর সাইকেল আসতে পারছিলনা তখন মটর ড্রাইভার একটি পুলিশের হাতের মুঠোয় কিছু টাকা গুজে দেওয়ার পর তারা নিজেরা মটর সাইকেলকে জায়গা করে দেয় ফেরিতে।
ঠিক সেই মুহূর্তে একমহিলা তার কোলের বাচ্চাকে বাঁচাতে ঔদ্যত্ত হলে আমাদের একজন মহিলার কোল থেকে বাচ্চাকে ছিনিয়ে নিয়ে কাধের উপর নেয়। মহিলাটি নিজেই তখন মরমর অবস্থা। ঢালা তখন প্রায় উঁচু হচ্ছে ফেরিতে। আর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। মহিলা ও বাচ্চাকে জায়গা করে করে দিয়ে আমরা ফেরি থেকে লাফ দিয়ে পড়ি। তখন আমাদেরকে টেনে হেচড়ে উঠাতে সক্ষম হয় কয়েকজন মানুষ। এখানে আর কোন ফেরি না থাকায় ৩ নাম্বার ঘাটের ফেরিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ঐ লোকটির নিকট গিয়ে টাকা ফেরত চাই। কিন্তু সে টাকা ফেরত দিতে কোনরকম স্বীকার করেনা। তখনও সেখানে পুলিশ দাড়িয়ে আছে। আমি তাকে গিয়ে অভিযোগ করলাম তাদের বিষয়ে। আমার কথা যেন তারা একটু আমলে নিল। আমাকে ধমকও দিল। আর বলল তারা কিছু করতে পারবে না। পুলিশের এরকম কথা শুনে লোকটি আমাকে মারার জন্য এগিয়ে এসে হাত পা ছড়া ছড়ি করছে। আর আমার সাথে থাকা দুজন ঠেকাচ্ছে। আমি আবার দৌড়ে গেলাম সেই পুলিশের কাছে আমি কাতর হয়ে বলছি, আমি আপনাদের নিকট অভিযোগ করছি আপনারা কিছু একটা করেন। আমাকে মারার জন্য কিভাবে এগিয়ে আসছে সেটাতো দেখছেন। এবারও আমাকে খুব ধমকিয়ে বলল আমি দুপুরে এখনও খাইনি। আমি পারবো না।
যদি দেশে এমন নিয়ম থাকতো অন্যায় করার শাস্তি যে কেউ দিতে পারে। তাহলে আমি পুলিশের ঐ পিস্তল নিয়ে পুলিশের মাথায় মেরে দিতাম।
আমি তাকে তাকে ছিলাম টাকা তোলা লোকটির সাথে পুলিশের কি সম্পর্ক। তারা টাকা তুলছে আর পুলিশ কোন কথা বলছেনা বরং, তাদের সাহস যোগাচ্ছে। কারণ কি? ভীড় কমে গেলে টাকা তোলার দায়িত্ব অন্য একজনকে দিয়ে পুরাতন লোকটিকে নিয়ে চলে যায় পাশে একটি হোটেলে। তারপর ব্যাগের মধ্যে থেকে ১০ টাকার অজস্র নোট বের করে তারা দুজন ভাগ করে নেয়। ফেরি থেকে জনসাধারণকে আরও দুইবার বিপদে পড়তে হয়। একবার ভাড়া আদায় করার সময় হলুদ একটি টিকিট বের করে বলে আপনাদের কাছে এমন টিকিট আছে? যদি না থাকে তাহলে ভাড়া দেন। জোর করেই ভাড়া আদায় করা হয়। তাহলে ফেরিতে উঠার সময় কিসের ভাড়া আদায় করা হয়েছে জানতে চাইলে তারা আমতা আমতা করে বলে ওটা পুলিশেরা জানে। এই হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থা। আমরা টিকিট চাইলে বলে আর কেউ ভাড়া আদায় করতে আসবে না। আমার নাম জলিল আসলে বলে দিয়েন। টিকিট লাগবে না। ঘন্টাখানিকপর একগোছা টিকিট হাতে নিয়ে কয়েকদল মানুষ। জোর করেই টিকিট দিয়ে মানুষের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে ছাড়লো।
সরকার লঞ্চ বোঝায় মানুষের সংখ্যা লুকাচ্ছে। নিহতের সংখ্যা লুকাচ্ছে। যদি আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকতো টাকা খেয়ে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝায় করার ক্ষমতা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে না দিতো তাহলে লঞ্চ ডুবির মত ঘটনা ঘটতো না। প্রতিনিয়তই এধরনের আহাজারি শুনতে হতোনা। প্রশাসন জনগণের জন্য সেবা করার জন্য নিয়োজিত থাকলেও বর্তমান তাদেরকেই বড় সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হয়। বেআইনী কাজ করার সুযোগ পায় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। ফলে সরকারকেও বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। আজ প্রশাসন ঠিকভাবে চললে দেশও সঠিকভাবে চলবে।