কৃষি নওগাঁ রাজশাহী

সেচ ব্যবস্থায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রিপেইড কার্ড

 নওগাঁ প্রতিনিধি : বরেন্দ্র এলাকার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে গভীর নলকূপ থেকে সেচ নেওয়া পদ্ধতি বরেন্দ্র এলাকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিক এ পদ্ধতি ব্যবহারে জমিতে ৪০ ভাগ পানির অপচয় রোধ হচ্ছে। তাছাড়া এ পদ্ধতি ব্যবহারে নলকূপ অপারেটর ও কৃষকের মধ্যে সেচ নিয়ে লেগে থাকা বিরোধের অবসান হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল এ প্রযুক্তি কৃষকের হাতে তুলে দেওয়ায় সরকার ভিশন-২০২১ অর্জনে কৃষিতে এক ধাপ এগিয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। সূত্র জানায়, নওগাঁয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার পত্নীতলা ও নওগাঁ এ দুটি অঞ্চলের আওতায় ৪ হাজার ১০১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপে বরেন্দ্রর নিয়োগ করা অপারেটর ইতোপূর্বে বিঘা প্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে সেচ দিয়েছিল। এতে করে খরা মৌসুমে জমিতে আগে সেচ দেওয়া নিয়ে অপারেটর ও কৃষকের মাঝে হরহামেশা লেগে ছিল বিরোধ।

এ অবস্থায় সরাসরি কৃষক পর্যায়ে সেচ নিশ্চিত করার লক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়ে। গেল কয়েক বছর ধরে সেচ সাশ্রয়ী প্রিপ্রেইড কার্ড কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চায়না কোম্পানি ওশান প্রিপেইডর কার্ড তৈরি ও এর প্যানেল বোর্ড সরবরাহের কাজ পায়। তথ্য মতে, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ১৪ হাজার ৫০০ গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্য ১১ হাজার ২০০টি গভীর নলকূপ প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছে।

চলতি অর্থবছর আরো ৩ হাজার ৩০০ গভীর নলকূপ প্রিপেইড মিটারের আওতায় অনার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অতিরিক্ত সচিব আহসান জাকির।

তিনি আরো জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ কে সফল করে তোলার লক্ষে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকা নিয়ামতপুর, পোরশা, মান্দা ও সাপাহার উপজেলার মাঠ ঘুরে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রিপেইড কার্ড পদ্ধতির ব্যবহারে জমিতে সহজেই সেচ নিতে পারছেন।
বরেন্দ্র বহুমুখীর নিয়োগ করা ডিলারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা প্রিপেইড কার্ডে টাকা ভরে সেই কার্ড গভীর নলকূপ ঘরে রাখা প্যানেল বোর্ডে ঢুকিয়ে জমিতে প্রয়োজন মতো সেচ নিতে পারছেন।

মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের কীর্তলী মাঠের নলকূপ অপারেটর শ্যামল চন্দ্র জানান, কৃষক প্রিপেইড কার্ড পেয়ে তাদের প্রয়োজন মত সেচ দিচ্ছে জমিতে।

নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বাদরন্ধ গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম ও মো. সেলিম জানান, এ কার্ড পাওয়ার পর জমিতে সেচ খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে প্রতি বিঘা জমি সেচ চুক্তি দেওয়া হতো ১ হাজার ২০০ টাকায়। এখন সেটা ৬০০ টাকায় হচ্ছে। তাদের মতো অনেক কৃষক কার্ডের সুফল পেয়ে আনন্দিত হয়ে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

তথ্য মতে, নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ২ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকরা চাষাবাদ করছেন। এসব জমির মধ্য প্রিপেইড কার্ড নিয়ে সেচ দিচ্ছে এমন কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নওগাঁ সদর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কৃষকরা যেন সহজেই কার্ড রিচার্জ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বরেন্দ্রর নিয়োগ করা ডিলাররা মাঠ পর্যায়ে এ সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। শতকরা আড়াই টাকা হারে ডিলাররা মুনাফা পেয়ে থাকেন।

মান্দা উপজেলা সদরের বিএমডিএ’র নিয়োগ করা ডিলার আব্দুর রহিম জানান, চলতি বছর ৫২ লাখ টাকা কৃষক পর্যায়ে রিচার্জ করা হয়েছে। এতে  আয়কর ভ্যাট বাদ দিয়ে তার নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
বরেন্দ্র বহমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মান্দা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, প্রিপেইড কার্ড নেওয়ার পর এখন কৃষকরা পানির অপচয় রোধ করে প্রয়োজন মত সেচ নিচ্ছেন। আগে কৃষকরা তাদের ধারণা থেকে জমির আইল ভরাট করে সেচ নিতেন। কার্ড ব্যবহারের ফলে তাদের টাকা সাশ্রয় ও সেচ ব্যবহারে মিতব্যয় হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম নুরুজ্জামান মন্ডল বলেন, ‘বরেন্দ্র বহুমুখীর উদ্ভাবন করা প্রিপেইড কার্ড কৃষি প্রধান এ জেলার কৃষকদের এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।’