অপরাধ জাতীয় ঢাকা রাজনীতি স্বাস্থ্য

অপ্রীতিকর ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ

 মেডিক্যাল প্রতিবেদক, ঢাকা, ৬ মে : অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষের পর থেকে জরুরি বিভাগে কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না। দুপুর দেড়টায় চিকিৎসকদের লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় চিকিৎসকরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে লাঠি হাতে মহড়া দিচ্ছিলেন। তারা জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি সিরাজের মা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-২-এর একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হলের জসিম ও আশিককে নিয়ে সিরাজ তার মাকে দেখতে আসেন। তারা ডাক্তারদের লিফট ব্যবহার করে ওপরে ওঠেন। এ সময় লিফটের ভেতরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা কারা? এই লিফটে উঠেছেন কেন?’ এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আশিক ও জসিমকে বেধড়ক পেটায়। এতে আশিক ও জসিমের মাথা ফেটে যায়। পরে আনসার সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেন। কিন্তু কোনো পক্ষই এ সময় মীমাংসায় রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রড, লাঠিসোঁটা দিয়ে জরুরি বিভাগের বিভিন্ন কক্ষে হামলা চালান। টিকিট কাউন্টারের জানালার গ্লাসসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

এ সময় হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে জানা যায়, বিষয়টি মীমাংসার জন্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমানের কক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন।