ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

সভা শুরুর আগেই বেরিয়ে গেলেন ‘ক্ষুব্ধ’ ফখরুল

 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা:  বিএনপির সহযোগী ঐক্য পরিষদ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতবিনিময় সভা পণ্ড হয়ে গেছে। ঠিক সময়ে সভাস্থলে পৌঁছেও সভা শুরুর আগেই সভাস্থল ছেড়ে চলে যান ফখরুল।

রোববার সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভাটি হওয়ার কথা ছিল।

সে মোতাবেক মেজর (অব.) হানিফের নেতৃত্বে ঐক্যপরিষদের নেতারা সকাল ১০টা থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ১১টার দিকে ফখরুল সেখানে পৌঁছে সহযোগী ঐক্যপরিষদ নেতাদের কাছে কৈফিয়ত চান। যা তারা ভালোভাবে নেননি। এরপর সভা শুরু না করেই বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জানা গেছে, প্রতিটি সংগঠন থেকে সর্বাধিক দুইজন করে এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত নেতাকর্মী দেখে ঐক্যপরিষদের ওপর ক্ষুব্ধ হন মির্জা ফখরুল।

এতো লোক কেন- তাও জানতে চান তিনি ঐক্যপরিষদ নেতাদের কাছে। এ নিয়ে কিছুটা বাদানুবাদও হয় দুপক্ষের মধ্যে। এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করলে প্রতিবাদে ঐক্যপরিষদ নেতারা চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

ঐক্য পরিষদের একটি সূত্র বাংলামেইলকে জানায়, বিএনপি ১৮, সাড়ে আঠারো, ১৯ দল নিয়ে জোট করেছে। এর মধ্যে দু’চারটি সংগঠন ছাড়া বাকিগুলো সাইনবোর্ড সর্বস্ব। পক্ষান্তরে ৩৮টি সমমনা সংগঠন নিয়ে বিএনপির সহযোগী ঐক্যপরিষদ। যা জাতীয়তাবাদী মতকে  শক্তিশালী করতে বিএনপি জোটের অধিকাংশ দলগুলোর চেয়ে ঐক্যপরিষদের ভূমিকা অনেক বেশি। কর্মসূচি পালন বিএনপির জন্য যখন দূরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তখন ঐক্যপরিষদই জাতীয়তাবাদী শক্তির কথা বলে। মতবিনিময় সভা থেকে চলে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে অপমানিত করেছেন আর অন্যদের লজ্জিত করছেন। যা সকলের জন্য দুঃখজনক। চেয়ারপারসনের কার্যালয় ত্যাগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ধরণের অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, পূর্ব নির্ধারিত এই মতবিনিময় সভার পূর্বপরিস্থিতি দেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চরম অপমানিত বোধ করেন। ঐক্যপরিষদের ব্যানারে এমন কিছু নেতা এসেছিলেন যারা  মির্জা ফখরুলের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈঠক করার যোগ্যতা রাখেন না। অতিরিক্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছিল না ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের। সভাটি ক্লোজডোর হলেও মির্জা ফখরুলকে না জানিয়ে গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ বিষয়টিকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ভালোভাবে নেননি।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেউ কেউ আবার মির্জা ফখরুলের ওপর দায় চাপিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, ‘ভূঁইফোড়’ সংগঠনের নেতাদের নিয়ে এ ধরণের আয়োজন করে কার্যত চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ইমেজ ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

জানা গেছে,  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির ঐক্যসহযোগী পরিষদ নেতাদের নিয়ে পরবর্তীতে সময় চূড়ান্ত করে বৈঠক করবেন।

বিএনপির সহযোগী ঐক্যপরিষদ নেতাদের মধ্যে সংগঠনিক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. নয়ন বাঙ্গালী, সাধারণ সম্পাদক মিঞা মো. আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ মোস্তফা জালাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।