জাতীয় রংপুর শিক্ষাঙ্গন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ; আহত ১০

 ইকবাল হোসেন,রংপুর অফিস: বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের দু’দিনব্যাপি ধর্মঘটের প্রথম দিনে রোববার ছাত্রলীগের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশ।
এদিকে, ধর্মঘটের ফলে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি, ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সকালে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কক্ষে তালা ঝুঁলিযে দেয়। এরপর তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। এরপর শহীদ মিনার এলাকায় পৌছলে ছাত্রলীগ নামধারি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের বাধা দেয়। এনিয়ে কথাকাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় ভয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এবং সাধারন শিক্ষার্থীরা এদিক সেদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। সংগর্ষে আহত হন সোলায়মান, ফরহাদ, নোবেল, ইন্দ্র মোহন, পল্লব, নুসরাত, শামীম, কাওছার, লতিফ, কবিরসহ ১০ জন  আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে প্রগতিশীল ছাত্রজোট কবি হেয়াত মাহমুদ ভবনের সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আহসানুল হাবিব তিতু।  বক্তব্য রাখেন জোটের নেতা নাসির উদ্দিন, উৎপল কুমার মোহন্ত, রাজিব আহমেদ, মুনিরা খাতুন, মিলন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, চলতি সেশনে গত বছরের তুলনায় বেতন ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, হল অ্যাটাচমেন্ট বাবদ ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য নিয়মিত খাতে সর্বমোট প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তারা আরো বলেন, এভাবে ফি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের দরিদ্র-নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে। সমাবেশ থেকে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সোমবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্বক ছাত্র ধর্মঘট পালিত হবে বলে জানানো হয়। বর্ধিত ফি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানানো হয়।  বক্তারা তাদের মিছিলে কোন শিবির বা বহিরাগত ছিল না। মিছিলে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ি করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
এদিকে, যশোর থেকে আসা ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলামের বাবা আমিরুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের কারণে ছেলেকে ভর্তি করাতে পারছি না। আজকেই ভর্তি হয়ে আমরা ফিরে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা হলো না। এখন কোথায় থাকব সে চিন্তায় রয়েছি। তিনি ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এব্যাপারে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদি হাসান ও সাধারন সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ হাসান জানান, প্রগতিশীল ছাত্রজোট শিবির ক্যাডার ও বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল করার সময় আমাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন আহত হয়।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করায় উপাচার্যের রুটির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি  নিয়ে আলোচনা চলছে।