লাইফ স্টাইল

প্রতিদিন আয়নার সামনে প্রায় ৫৫ মিনিট ব্যয় করেন নারীরা

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে সবারই ভালো লাগে। কিন্তু এই আয়না দেখা কি কেবলই রূপচর্চা না আরো বেশি কিছু? গবেষণা বলছে, শুধু ভালো লাগা নয় শুধু রূপচর্চা নয়, আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেকে যাচাই

করে নেওয়া। যেন অনেকটা নিজের মুখোমুখি হওয়া। কিন্তু নারীরা গড়ে কতক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়ান? যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপের ফল বলছে, গড়ে মার্কিন নারীরা বছরে অন্তত দুই সপ্তাহ আয়নার সামনে থাকেন। হাফিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আমরা আমাদের মূলব্যান সময়ের একটা বড় অংশ কাটাই অন্যরা আমাদের কেমন দেখছে, অন্যদের কাছে আমরা কীভাবে উপস্থাপিত হচ্ছি তা নিয়ে। ‘টুডে/এওএল’ পরিচালিত ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৬ বছরের বেশি বয়সী নারীদের প্রশ্ন করা হয় নিজেদের কেমন দেখাচ্ছে তা নিয়ে তাঁরা কতটা সময় দেয় এবং এটা তাঁদের প্রাত্যহিক জীবনকে কতটা প্রভাবিত করে।

দুই হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ২০০ তরুণী এই জরিপে অংশ নেন।

জরিপে দেখা গেছে, এই নারীরা আয়নার সামনে বছরে গড়ে ৩৫৫ ঘণ্টা বা দুই সপ্তাহ ব্যয় করেন। চুলের পরিচর্যা, মেকআপ করা ও নিজেকে দেখা, নিজেকে নিয়ে ভাবার পেছনেই যায় এই সময়। আর দিনের হিসাবে তাঁরা প্রতিদিন প্রায় ৫৫ মিনিট আয়নার সামনে দাঁড়ান।

অবশ্য এই জরিপে নারীদের আরো গভীর ভাবনাও উঠে এসেছে। প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও কৈশোর পেরোনো মেয়েরা নিজেদের নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট থাকেন বা নিজেদের নিয়ে তাঁদের হতাশা কাজ করে কি না, সেসবও উঠে এসেছে এই জরিপে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৬০ শতাংশ নারী ও ৭৮ শতাংশ কৈশোর পেরোনো মেয়েরই নিজেদের কেমন দেখাচ্ছে তা নিয়ে নেতিবাচক কিছু না কিছু বলার আছে।

আয়না দেখা নিয়ে সন্তান আছে এমন নারী ও নিঃসন্তান নারীদের মধ্যে মানসিকতার পার্থক্যও উঠে এসেছে জরিপে। দেখা গেছে, মা হননি এমন নারীদের তুলনায় মা হয়েছেন এমন নারীরা নিজেদের কেমন দেখাচ্ছে তা নিয়ে বেশি চিন্তিত।

তবে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁদের এই চিন্তার মূল কারণ তাঁরা ভাবেন যে তাঁকে কেমন দেখাচ্ছে তাঁর একটা প্রভাব তাঁর সন্তানের ওপর পড়তে পারে। তাই সন্তান যাতে তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং তাঁকে সব সময় ‘ভালো’ দেখে, তাঁর জন্য সচেষ্ট থাকেন এমন নারীরা।

আর নারী বা পুরুষ সবারই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ঝরে যেতে থাকা, ত্বকের কোনো না-কোনো সমস্যা, স্বাস্থ্য খারাপ হলো কি না বা আজকাল খুব বুড়িয়ে যাচ্ছেন কি না এমন সব ভাবনা থাকেই।

তবে, শারীরিক সৌন্দর্য এবং অন্যরা দেখে কী ভাবছেন তা নিয়ে ভাবনার পাশাপাশি আয়নার সামনে মানুষের নিজের সঙ্গে নিজের একটা বোঝাপড়াও হয়।