লাইফ স্টাইল

একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে কাজগুলো একদমই করবেন না!

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক, ২০ ফেব্রুয়ারি (হটনিউজ২৪বিডি.কম) :  আগামী কাল মহান একুশে ফেব্রুয়ারী। ভাষার দাবীতে এদেশের দামাল ছেলেরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষাকে ছিনিয়ে এনেছিলো। বীর সেই সন্তানদেরকে স্মরণ করা হয় এই দিনে। আর তাই ২১ ফেব্রুয়ারীকে শোক দিবস বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম এই দিনটির গুরুত্ব ও মর্যাদা না বুঝে দিনটিকে একটি উৎসবের দিনে পরিণত করেছে। আর তাই নিজেদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ভুলে নানান আয়োজনে মেতে উঠছে তারা। এমনকি নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই দিনের সঠিক ইতিহাসটা ঠিক মত জানেও না। একুশে ফেব্রুয়ারীকে বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসের সাথে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। জেনে নিন একুশে ফেব্রুয়ারীতে কী কী কাজ করা উচিত না সেই সম্পর্কে।

ফ্যাশনে উগ্রতা পরিহার করুন

একুশে ফেব্রুয়ারীকে অনেকেই এখন একটি ফ্যাশনের দিনে পরিণত করে ফেলেছেন। ঢাকা শহরের বেশিরভাগ পার্লারই এই দিনটিতে বিশেষ প্যাকেজ অফার করে এবং খোলা থাকে। ফ্যাশন হাউজ গুলোতে নানান রকম পোষাক তৈরী হয় দিনটিকে সামনে রেখে। আর তাই তরুন প্রজন্মের অনেকেই ফ্যাশনের শ্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে নানা রকম উগ্র পোশাক ও মেকআপ করে এই দিনটিতে যা খুবই বেমানান। ফলে দিনটির মাহাত্ম্য নষ্ট হয়।

ডেটিং দিবস বানাবেন না

আজকাল বাংলাদেশে একটি লক্ষ্য করার মত বিষয় হচ্ছে প্রতিটা বিশেষ দিবসই ডেটিং দিবসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ দিন মানেই হলো কপোত কপোতিদের অবাধ বিচরণের বিশেষ উপলক্ষ্য। অন্যান্য আনন্দের দিন গুলোতে বিষয়টি তেমন আপত্তিকর না হলেই শোকের এই দিনটিকে ডেটিং দিবস বানানো মোটেও উচিত হয়। এতে দিনটির মর্যাদাক্ষুণ্ণ হয়।

নিজস্ব সংস্কৃতির বাইরে কিছু করবেন না

একুশ হলো বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলন। কিন্তু বাংলা ভাষা আর বাঙালি সংস্কৃতি আগের মত নেই আর। অন্য ভাষা ও অন্য সংস্কৃতির মিশ্রণে কলুষিত হয়ে যাচ্ছি আমরা। একুশে ফেব্রুয়ারীতে ভিনদেশী গান উচ্চ শব্দে বাজিয়ে আনন্দ করা একেবারেই ঠিক নয়। সেই সঙ্গে এই একুশে ফেব্রুয়ারীতে মন থেকে একজন শুদ্ধ বাঙালি হয়ে ওঠার প্রতিজ্ঞা করুন নিজের সাথে।

আনন্দের অনুষ্ঠান বানিয়ে ফেলবেন না

একুশে ফেব্রুয়ারী কোনো আনন্দের অনুষ্ঠান না। একটি একটি শোকের দিন। এই দিনটিকে বড় বড় আনন্দের অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন না। ডিজে পার্টি, নাইট ক্লাব, স্কুল কলেজের অনুষ্ঠান, পাড়া মহল্লার অনুষ্ঠান গুলোকে মার্জিত রাখুন। কোনো ক্রমেই দিনটিকে আনন্দ ফূর্তির দিন বানানো উচিত হয়।