রাজনীতি

খোকার জন্য অপেক্ষা!

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি  (হটনিউজ২৪বিডি.কম) :   ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত নতুন কমিটির দেখা পাচ্ছেন না দলের নেতাকর্মীরা। এজন্য তাদেরকে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে তার নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারছেন না।

দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, যতদিন খোকা জেলমুক্ত না হচ্ছেন ততদিন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে। তবে তার আগ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি ‘বিশেষ কমিটি’ ঢাকা মহানগরের থানা থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের দায়িত্ব পালন করবে।

দলীয় সূত্রটি আরো জানায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সভায় ঢাকা মহানগর কমিটি পূনর্গঠনের বিষয়ে জোর দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষিতে দলের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি এ ইউনিটকে নতুন করে সাজনোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন বিএনপি প্রধান। 

স্থায়ী কমিটির ওই সভায় আন্দোলনে ব্যর্থতার দায়ে অভিযুক্ত এ ইউনিটকে ভেঙে দু’টি ইউনিট অথবা না ভেঙে একটি নতুন কমিটি গঠণের বিষয়ে মনোভাব পোষণ করা হয়। 

এর সূত্র ধরে ঢাকায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার কৈফিয়ত জানতে এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে সোমবার রাতে ওই ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। এ সময় আন্দোলনে ব্যর্থ ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাদের ওপর বেশ চটে যান বিএনপি চেয়ারপাসন। তারাও ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কমিটি নিয়ে ভবিষ্যতে চেয়ারপারসনের যে কোনো পদক্ষেপের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। 

খালেদা জিয়াও মহানগর নেতাদের নতুন কমিটির জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান। তবে ওই বৈঠকে মহানগর কমিটি ভেঙে দেয়ার ঘোষনা আসার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কিছুটা সময় নিয়েই কমিটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে চান বিএনপি প্রধান। মূলত সাদেক হোসেন খোকাকে কারাগারে রেখে এখনই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান  বলেন, ঢাকা মহানগরের মূল কমিটি করার ক্ষেত্রে এর আহ্বায়কের উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন। সেজন্য বিএনপি আশা করছে ‘মিথ্যা মামলা’ থেকে তিনি অচিরেই মুক্তি পাবেন। এতে বিএনপি’র মহানগর কমিটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে। 

তিনি বলেন, বিএনপি ঢাকা মহানগরের জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি চায়। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ফর্মূলা প্রয়োগ করা হবে এবং এতে সব ত্যাগী নেতারাই স্থান পাবেন বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।   

দলীয় সূত্র আরো জানায়, সরকারের সঙ্গে আতাতসহ শত অভিযোগে অভিযুক্ত থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন ভালো করেই জানেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা তার বিশ্বস্ত নেতা। এজন্য খোকাকে কারাগারে রেখে এই মুহুর্তে মূল কমিটিতে হাত দিতে চাননা চেয়ারপারসন।

তবে নতুন কমিটি ঘোষনার আগে এ ইউনিটের থানা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড ইউনিটগুলো করে ফেলবে দলটি। এজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ টিম’কে দায়িত্ব দিচ্ছেন। যারা সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে ত্যাগী নেতাদের এসব কমিটিতে স্থান দেবে। 

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে প্রধান করে ওই ‘বিশেষ কমিটি’ আগামী দু’একদিনের মধ্যেই ঘোষনা করার সম্ভবনা রয়েছে। এ কমিটির মেয়াদ হবে বড়জোর এক মাস।

২০১১ সালের ১৪ মে বেগম খালেদা জিয়া সাদেক হোসেন খোকাকে আহ্বায়ক এবং আবদুস সালামকে সদস্য সচিব করে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচন করার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।