কৃষি নওগাঁ

নওগাঁয় ধানের চেয়ে বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

নওগাঁ, ১০ ফেব্রুয়ারি : বেগুন চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় নওগাঁ জেলার বরেন্দ্র অধ্যুষিত এলাকার কৃষকরা বেগুন চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন।

বেগুন চাষ করে একদিকে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে দেশের সব্জির চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

মহাদেবপুর সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়ন, কির্ত্তীপুর ইউনিয়ন, মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়ন, চেরাগপুর ইউনিয়ন এবং এনায়েতপুর ইউনিয়নে গত দুই বছর ধরে ধানের জমিতে বোরো চাষ না করে বেগুন চাষ শুরু করেছেন কৃষক।

বেগুন চাষি জব্বার আলী জানান, নিতি ১ দুই বিঘা ৫ কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। এসব এলাকায় মাঠে মাঠে এখন কেবল বেগুনের ক্ষেত। কৃষকরা যশোরের ইসলামপুরী এবং সাদা গুটি জাতের বেগুন চাষ করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ জেলায় ১ লাখ ৮২০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। গত বছর যেখানে চাষের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩শ হেক্টর।

নাটশাল গ্রামের হানিফ ২৫ কাঠা জমি ২০ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে গত দু’বছর ধরে বেগুন চাষ করেছেন। বেগুন চাষ তার সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। ফটিকপুর গ্রামের মো. নওশাদ আলী তার নিজস্ব এক বিঘা জমিতে করেছেন বেগুনের ক্ষেত।

চাষিরা জানিয়েছেন, বেগুন চাষে বোরো আবাদের চেয়ে পানি কম লাগে। সার ও লেবার খরচও অনেক কম। তুলনামূলকভাবে বাজারে মূল্য বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা। ধান পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মণ। প্রতি মণ ৫শ টাকা হিসেবে উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে কৃষকের ঘরে লাভ কিছুই আসে না।

কৃষকরা জানায়, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ হয় ১৬ হাজার টাকা। সেখানে পুরো মওসুমে বেগুন পাচ্ছেন প্রায় দেড়শ মণ। বর্তমান বাজার অনুযায়ী গড়ে প্রতিমণ বেগুন পাইকারী পর্যায়ে বিক্রি করছেন ৭শ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত লাভ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম নুরুজ্জামান মণ্ডল রাইজিংবিডিকে জানান, বোরো চাষের চেয়ে বেগুন চাষ করে অধিক লাভজনক হওযা যায়। সেচ খরচ একেবারে নেই বললেই চলে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম অন্যদিকে বাজার মূল্য বেশি কৃষকদের বেগুন চাষে উৎসাহিত করে তুলছে।

এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে।