অপরাধ জাতীয় ঢাকা

রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক ১৩ ফেব্রুয়ারি

 আদালত প্রতিবেদক: রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক আগমি ১৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।  ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন আমিন এই আদেশ দেন। এসময় রাষ্ট্র পক্ষের অতিরিক্ত পিপি এসএম জাহিদ হোসেন সরদার আদালতকে বলেন, মামলার অন্যতম আসামি মাওলানা আকবর হোসাইন জামিনে আছেন তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হোক। তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে আসামির আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান আদালতবে বলেন, মামলা প্রায় ১ যগ ধরে চলছে। প্রতিটি তারিখে আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। এছাড়া জামিনের কোন শর্ত ভঙ্গ করে নাই তাই আসামির জামিন বহাল রাখা হোক। উভয় পক্ষের শুনানী শেষে জামিনের আসামি মাওলানা আকবর হোসাইন এর জামিন বাতিল করে আদালত আগামি ১৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন । এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর আদালতে আসামিরা আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন আদালতে। মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। তার আগে বহুল আলোচিত এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মোস্তফা কামাল হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে। ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল তৎকালীন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ এ এন এম বশিরউল্লাহ ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই বছরের ৩ মে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য গ্রহনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা ১৪০৮ সনের ১ বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এ হামলায় ১০ জন নিহত হন নিহতরা হলেন আমিনউল্লাহ আমান, রফিকুল ইসলাম, মামুন ইব্রাহিম ওরফে খলিল, মাহমুদুল কবীর, ওমর ফারুক, মাহবুব, আফজাল, স্বপন কুমার দাস, রেজা ও অসীম, আর আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় ওইদিনই বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমলচন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথম এ মামলা তদন্ত করেন রমনা থানার তৎকালীন এসআই মোহাম্মদ কবির। পরবর্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তারপর ২০০৩ সালে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরিত করা হয়। সিআইডি দীর্ঘ সাত বছর পর ২০০৮ সালে ২৯ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে।চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি ওরফে আবদুল মান্নান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুর
ভাই মাওলানা মো. তাজউদ্দিন আহমেদ, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ, মুফতি শফিকুর রহমান শফিক, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, আরিফ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া। এদের মধ্যে মুফতি আবদুল হান্নান, আরিফ হাসান সুমন, আবদুর রউফ, আবু তাহের ও শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল কারাগারে আছেন। এছাড়া মাওলানা আকবর হোসেন জামিনে আছেন।আর পলাতক আট আসামিরা হলেন, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি শফিউর রহমান শফিক, মাওলানা সাব্বির, ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ আবুবকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি আবদুল হাই ওরফে আবু নঈম ও হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর।