বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যেই সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করছে। তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থেই সরকার পরিচালিত হয়, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিনটি স্তর একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি দল হিসেবে কাজ করতে পারলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করলেই হবে না; জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। সরকারের পুনর্গঠন কার্যক্রম টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে—এটি শুধু আবেগ নয়, বরং বাস্তব সামাজিক সত্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সবার সহযোগিতায় উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়; বরং জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলেই নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।