অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ

49503_49485_bdr2 হটনউজ২৪বিডি.কম, ঢাকা, ৫ নভেম্বর  :  রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর হত্যা মামলার রায়ে তৎকালীন উপ সহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল ইসলামসহ  ১৫২ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রায়ে ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন, ২৬২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় ২৭১ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে রায় ঘোষণা শুরু হয়। মোট ৮৫০ জন আসামির মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন। ৮৪৬ জনের মধ্যে ২১ জন পলাতক রয়েছে। আদালতে হাজির করা হয় ৮২৫ জনকে। রায়ে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার অভিযোগে ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ২৬৩ জনের মধ্যে ২০৭ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় ২৭১ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। সকাল ১০টায় আদালত বসার কথা থাকলেও দুপুর ১২টার দিকে এজলাসে আসেন বিচারক মোঃ আখতারুজ্জামান আদালতে পৌঁছান। দেরিতে বিচার কার্যত্রম শুরু হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে রায় ঘোষণা শুরু করেন তিনি। তিনি জানান, উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ নিতে পারবেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত হন। কাঠগড়ায় আনা হয় ৮২৬ জন আসামিকে। লোহার বেড়া দিয়ে বানানো হয়েছে কাঠগড়া। হাজতে থাকা ৮১৩ জনকে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনা হয়। পাশেই রাখা হয়েছে জামিনে থাকা ১৩ জনকে। রায় ঘোষণা উপলক্ষে আশপাশের এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা চারদিক দিয়ে আদালত এলাকা ঘিরে রেখেছেন। বকশিবাজার ও ঊর্দু রোড দিয়ে প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহের প্রায় ৪ বছর ৮ মাস পর এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

৩০ অক্টোবর মামলার রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও নিরাপত্তারজনিত কারণে পিছিয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর আগে ২০ অক্টোবর তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলার সর্বশেষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মোঃ আখতারুজ্জামান ৩০ অক্টোবর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।