সকল মেনু

চরিত্র থেকে চরিত্রে

গ্ল্যামার গার্ল থেকে চরিত্রাভিনেত্রী– দুটিতেই এখন ঢাকার সিনেমায় ভরসার নাম হয়ে উঠেছে বিদ্যা সিনহা মিম। অথচ বছর পাঁচেক আগেও মিমকে এভাবে ভাবা হয়নি। শুধু গ্ল্যামারেই আবদ্ধ ছিল তাঁর চরিত্র। সেই মিম কয়েক বছর ধরে নানারূপে, বিভিন্ন চরিত্রে দেখা দিয়ে নিজেকে চেনালেন। ‘পরাণ’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় দিয়ে নিজেকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ‘দামাল’-এর হাসনা চরিত্রে হয়ে উঠলেন তেজোদীপ্ত এক অভিনেত্রী। দর্শকের কাছে নতুন করে আবিষ্কৃত হলেন; জয় করলেন তাদের মন। সেই মিম এবার নতুন পরীক্ষায় নামলেন। নিজেকে আরও কীভাবে মেলে ধরা যায়, সেই পথেই হাঁটতে শুরু করলেন।

প্রয়াত লেখক, গবেষক, শিশু সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য পান্না কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। মিমের সঙ্গে যখন কথা হয় তখন চারদিকে ঝলমলে রোদের দিন। এফডিসিতে শুটিং করছিলেন সিনেমাটির। জানালেন, ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ ছবি করতে গিয়ে পান্না কায়সার চরিত্রটির প্রেমে পড়েছেন! এমন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ থাকে; সুযোগ থাকে অভিনয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণের। যদিও অভিনেত্রী হিসেবে মিমের নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। নিজের মেধার প্রমাণ দিয়েই তিনি এ জগতে পা রেখেছিলেন; হয়েছিলেন লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁকে নিয়েছিলেন ‘আমার আছে জল’ সিনেমাতে। পরের ইতিহাস তো সবারই জানা। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘পরাণ’ সিনেমার সাফল্যে মিম যখন প্রশংসায় ভাসছিলেন, অনেকেই হয়তো মনে করেছিলেন মিমের কাছ থেকে এখন একের পর এক সিনেমার ঘোষণা আসবে। নতুন নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হবেন তিনি। চলতি বছরটা হয়তো মিমময় থাকবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। মিমময় ঠিকই থেকেছে কিন্তু সেটা চলচ্চিত্রের সংখ্যা দিয়ে নয়, ভালো কাজ দিয়ে।

মিম বললেন, ‘পরাণের পর অনেক ছবিতেই চুক্তিবদ্ধ হওয়া যেত। কিন্তু তার অনেক গল্পেই দর্শক অনন্যা কিংবা হাসনার মতো অভিনেত্রীকে পেতেন না। আমি মনে করি, যশ-খ্যাতির জন্য অনেক কিছুই করা যায়, আত্মতৃপ্তি সবকিছুতে থাকে না। এখন সেই কাজগুলোই করতে চাই বা করছি, যে কাজ আমার শিল্পীসত্তাকে খুশি করবে।’ মিমের এ কথা থেকে বোঝা গেল, জনপ্রিয়তার জোয়ারে গা ভাসাতে চান না এই মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি সুদূরের যাত্রী। শিল্পীসত্তাকে খুশি রেখে ভালো কাজের মধ্য দিয়েই সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চান। সেই চাওয়া পূরণে প্রতিটি কাজ নিশ্চয়ই যাচাই-বাছাই করতে হয়? এ প্রশ্নে মিম বলেন, ‘কাজের বাছবিচার তো করতেই হয়। এ জন্য অভিনয়ে সবসময় গুরুত্ব দিই গল্পকে। এরপর আসে চরিত্রের বিষয়টি। চরিত্রে মিশে গিয়ে পর্দায় নিজেকে তুলে ধরতে পারব কিনা এবং তা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা কতটা সম্ভব, সেটা নিয়ে ভাবি। তাই ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতীক্ষায় থাকি, যতক্ষণ না কাঙ্ক্ষিত গল্প ও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে।’ এক যুগের ক্যারিয়ারে বহুবার অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে পর্দায় তুলে ধরেছেন মিম। নানা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।

‘পরাণ’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন মিম। সে কারণে এই অভিনেত্রীর কাছে দর্শকের প্রত্যাশাও বেড়ে গেছে। তাই নিজেকে নানাভাবে মেলে ধরার চেষ্টায় ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। মিম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে ভিন্ন সব চরিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সব চরিত্রই একেবারে নতুন, এটা বলা যাবে না।’ আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে মিম অভিনীত সিনেমা ‘অন্তর্জাল’। দীপংকর দীপন পরিচালিত দেশের প্রথম সাইবার থ্রিলার গল্পের এ সিনেমায় নতুন এক মিমকে পাবেন দর্শক। যে মিমের মুখে কোনো হাসি নেই, রোমান্স নেই; আছে কেবল ‘লিডারশিপ’।

নায়িকা বললেন, ‘অন্তর্জাল দেখে দর্শকের হলিউডের সিনেমা মনে হবে। এ সিনেমায় আমার চরিত্রটি একেবারেই ব্যতিক্রম। এ সিনেমায় দর্শক আমাকে কখনও হাসতে দেখবেন না। চরিত্রটি খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল।’ কলকাতার জিতের বিপরীতে ‘মানুষ’ সিনেমাতেও পাওয়া যাবে আরেক মিমকে। সঞ্জয় সমদ্দার পরিচালিত ‘মানুষ’ সিনেমার মিমও সবার পছন্দ হবে বলে নায়িকার ভাষ্য। এর বেশি ‘মানুষ’ সিনেমা নিয়ে বলতে চাইলেন না মিম। জানিয়ে দিলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে যা বলার জিত দা বলবেন। আপাতত সিনেমাটি নিয়ে আমার মুখে তালা!’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top