সারাদেশ

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষে কৃষকের সর্বনাশ

পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি :

রাজবাড়ীর পাংশায় পেঁয়াজ চাষে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে কৃষক। লাপাত্তা অসাধু বীজ ব্যবসায়ীরা। দীশে হারা ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষক। বৈধ বীজ ব্যবসায়ী ডিলারদেন কাছ থেকে বীজ ক্রয়ের পরামর্শ স্থানীয় কৃষি বিভাগের।

উপজেলার কসবামাজাইল, সরিষা, মাছপাড়া, যশাই, পাট্টা ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক পেঁয়াজ চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

পেঁয়াজ চাষে ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়নগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ইন্ডিয়া থেকে আসা লাল তীর পেঁয়াজের বীজ ক্রয় করেছেন তারা। প্রতি কেজি বীজ ক্রয় করেছেন চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দরে। স্থানীয় সেজোনাল ব্যবসায়দের কাছ থেকে এ পেঁয়াজের বীজ ক্রয় করেছেন তারা। প্রতিষ্ঠিত কোন দোকান থেকেও ক্রয় করেনি তারা। বোগন করা বীজের ১০০% চারা হয়েছে। জমিতে রোপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে রোপনকৃত চারা মরতে শুরু করেছে। রপনকৃত চারার প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ চারা মারা গিয়েছে।

এ নিয়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক কৃষক। কৃষি অফিসের পরামর্শ ফলপ্রশু হচ্ছে না বলেও জানান তারা। এমন ঘটনায় পলাতক রয়েছে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার সরিষা, কসবামাজাইল, কলিমহর ও পাট্টা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা জানান, সরিষা ইউনিয়নের সালাম মণ্ডল ওরফে হযরত আলী, রাসেল, আক্তার, জলে, আকরাম, সিদ্দিক সরদার ও নুজদারের কাছ থেকে বীজ ক্রয় করেছেন। বীজ ক্রয়ের সময় তারা বলেছেন, এই বীজ অনেক ভালো। ইন্ডিয়া থেকে আমদানীকৃত লাল তীর বীজ। ফলন অনেক ভালো হবে। তাদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতিতে আমরা এই বীজ ক্রয় করেছি। বোগন করা বীজের ১০০% চারা গজালেও জমিতে রোপনের পর মারা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সরিষা ইউনিয়নের আধাঁরকোঠা গ্রামের সালাম মন্ডল ওরফে হযরত আলী বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী প্রায় ১৮ মন বীজ বিক্রয় করেছে। প্রতি কেজি বীজ ৪-৫ হাজার টাকা করে বিক্রয় করেছে। প্রতিদিন বাড়ির উপর লোকজন আসছে। তাদের কাছ থেকে ২০ দিনের সময় নিয়েছে। তাদের হয়তো হাতে পায় ধরে কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে। হযরত আলী কোথায় আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জানি না। তার মোবাইল নষ্ট হয়ে গেছে তার সাথে কোন যোযোগ নাই। অন্যান্য বীজ বিক্রেতাদের সাথে যোগযোগ করার চেষ্টা করলে তা কোন ভাবেই সম্ভব হয়নি।

সরিষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজমাল আল বাহার বলেন, পেঁয়াজ চাষ অনেক ব্যয়বহুল। আমাদের ইউনিয়ন সহ উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষ বেশি করে থাকে। এ বছর আমার ইউনিয়নের ৬-৭ জন লোক পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করে কৃষকদের সর্বনাশ করে দিয়েছে। যারা এই বীজ বিক্রি করেছে তারা কেউই ব্যবসায়ী না বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত। আমার কাছে সরিষা, কসবামাজাইল, কলিমহর ও পাট্টা ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রæপিং ভাবে লিখিত অভিযোগ করেছে প্রায় দুইশতাধিক কৃষক। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ কারর চেষ্টা করেছি। তারাদের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন, এ ঘটনায় আমরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় আমাদের পরামর্শ কাজেও এসেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্যে কিছু কৃষক আমাদের ভালো বীজ রোপন করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা বীজ ক্রয়ের আগে আমাদের সাথে কোন পরামর্শ করেনি এবং উপজেলার বৈধ বীজ বিক্রেতা ডিলারের কাছ থেকে তারা কোন বীজ ক্রয় করেনি। বৈধ বীজ বিক্রেতা ডিলারের কাছ থেকে বীজ ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এখন পর্যন্ত এমন কোন অভিযোগ পাইনি।

কি কারণে কৃষক এমন ক্ষতির সম্মুখীন কয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেনে, আমরা এ বিষয়ে মশলা গবেষণা ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্রকে চিঠি লিখে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে তারা বলতে পারবে।

তিনি আরও জানান, শুধু পাংশা উপজেলাতেই না রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি, কালুখালী, পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে বিশেষ করে পার্ট ও পেঁয়াজের বীজ ক্রয়ের সময় অবশ্যই অনুমোদন বিহীন কোন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বীজ না ক্রয়ের পরামর্শ দেন তিনি।