রাজনীতি হটনিউজ স্পেশাল

অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব বস্তিবাসীর জন্য স্থায়ী আবাস চায় বিএনপি

হটনিউজ ডেস্ক :

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তির লোকজনের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত, এখানে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালী সাততলা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে, কী কারণে আগুন লাগল, কেন লাগল। এদের (বস্তিবাসীদের) জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা কী করা যায়, তার জন্য অবশ্যই সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘এখানে ভাসমান মানুষ, কেউ গৃহপরিচারিকার কাজ করেন, কেউ রিকশা চালান, কেউ বুট পালিশ করেন। একেবারেই বাস্তহারা ছিন্নমূল মানুষগুলো এই ধরনের বস্তিতে বসবাস করেন। আজকে ৫০ বছর হয়ে গেল, কিন্তু মানুষের মৌলিক যে অধিকার, প্রতিটি মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা সেটা করতে পারিনি। আজকে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট করছে। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ৫০ হাজার কোটি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই ছিন্নমূল মানুষগুলোর জন্য কেউ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কঠিন কাজ না তো। বাংলাদেশ সরকারের যে জমি, সেই জমিগুলোই তো বরাদ্দ করা যায়।’

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদের এই এলাকার মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আওয়াল আছেন। যদিও সরকারের নির্বাচন কমিশন তাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও জনগণের নির্বাচিত মেয়র তাবিথ। আমি আশা করি, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সামান্য হলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা করবে। আমি আবারও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তাদের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি করছি।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি চালু না হয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা যারা সমাজের জন্য কাজ করছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি তাদের কাজ হলো অবিলম্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।’

এ সময় বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুনসী বজলুল বাসিত আনজু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকি, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।