ঢাকা হটনিউজ স্পেশাল

রিকশাচালককে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, সুলতান কারাগারে

হটনিউজ ডেস্ক:

পুরান ঢাকার বংশালের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলের কার্যালয়ের সামনে এক রিকশাচালককে মারধর করেছিলেন সুলতান আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার পর ভিডিওটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার সেই রিকশাচালককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকির এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই রিকশাচালককে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে। তারপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এক সংবাদকর্মী পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং বিভাগের বার্তাবাক্সে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানান। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতনকারী সুলতান আহমেদকে আটক করে পুলিশ।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকির বলেন, ‘আমরা গতকাল সুলতান আহমেদকে আটকের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন তিনি কেরানীগঞ্জের কারাগারে রয়েছেন। আদালত ওই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ২৩ মে। আমরা রিকশাচালককে খোঁজার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনও পাওয়া যায়নি। পরবর্তী শুনানির আগে যদি রিকশাচালককে খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর মতামত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি না পাওয়া যায় তাহলে ভিডিও অনুযায়ী আমরা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব আদালতে। এরপর তাকে জামিন দেবে, নাকি পুনরায় কারাগারে পাঠাবেন তা নির্ধারণ করবেন আদালত।’

রিকশাচালককে মারধরের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বংশালে এক ব্যক্তি রিকশাওয়ালাকে চড়-থাপ্পড় মারছেন। সে সময় ওই ব্যক্তি রিকশাচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিন্তু আশপাশে থাকা কেউ সামনে এগিয়ে আসেননি। সে সময় আরও চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে রিকশাচালক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওই রিকশাচালক যখন মাটিতে পড়ে যান তারপর আবারও গালিগালাজ করতে করতে টেনে তুলেন ওই ব্যক্তি। যখন তিনি পুনরায় রিকশাচালককে মারতে যান, তখন সেখানকার লোকজন এগিয়ে আসেন এবং ওই ব্যক্তির কাছ থেকে রিকশাচালককে ছাড়িয়ে নেন।

আটকের ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদকর্মীর পাঠানো ওই ভিডিওটি দেখামাত্র পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকিরকে নির্দেশনা দেন নিপীড়নকারী লোকটিকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ওসি বংশালের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে আইনের আওতায় আনে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত লোকটির নাম সুলতান আহমেদ। তিনি সেই এলাকায় স্থানীয় বাড়িওয়ালা এবং প্রভাবশালী।