জাতীয় প্রধান খবর প্রধানমন্ত্রী কর্নার

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কৃষকদের আর কষ্টে থাকতে হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

হটনিউজ ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেই সবসময় কৃষদের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে, তখনই কৃষকদের আর কোনও কষ্টে থাকতে হয়নি। কারণ আমরা তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি।

আজ সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার এই বক্তব্য প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে সারের দাম ছিল ৯০ টাকা। আজ তা ১২ টাকায় আমরা নামিয়ে এনেছি। গবেষণার মাধ্যমে উন্নত বীজ আমরা উৎপাদন করছি এবং সেই বীজ আমরা সরবরাহ করছি। আমরা সেই সঙ্গে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের যে লক্ষ্য জাতির পিতার ছিল, আমরা সেই লক্ষ্য কার্যকর করে দিচ্ছি। সেখানে আমরা ৭০ শতাংশের বেশি ভর্তুকি দিচ্ছি। আমরা কৃষি-যান্ত্রিকীকরণ করে যাচ্ছি যেন আমাদের কৃষকরা আরও বেশি পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করতে পারে।

তিনি বলেন, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, প্রতিটি কৃষি-উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সেই সঙ্গে আমরা সেচ কাজে কৃষক যে বিদ্যুৎ ব্যাবহার করেন, সেখানে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি এবং কৃষকের বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন নিশ্চিত হয়, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। বর্তমানে সেচ কাজে আমরা সোলার-প্যানেল ব্যাবহারও আমরা শুরু করে দিয়েছি। ন্যায্য মূল্য যাতে আমাদের কৃষকরা পায়, তার জন্য যথাযথ আমরা দাম নির্দিষ্ট করছি এবং কৃষকদের সহায়তা দিচ্ছি।

কৃষকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেরও কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিভত্তিক অর্থনীতি আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কৃষি অর্থনীতির সাথে সাথে আমরা শিল্পের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছি। কারণ উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ব্যবস্থা এবং দেশে-বিদেশে পণ্য যেন আমরা রপ্তানি করতে পারি, তার ব্যবস্থা করে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

দেশের মানুষে খাদ্যের চাহিদা পূরণের কৃষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সকল কৃষক-কিষাণিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তারা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাদ্য উৎপাদন করেন। সেই খাদ্য খেয়েই আমরা বেঁচে থাকি। কাজেই তাদের প্রতি আমাদের সব সময় সমর্থন রয়েছে এবং তাদের সহযোগিতা করা- এটা আমরা বিশেষ করে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের কর্তব্য মনে করে।

কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠনের পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতা দখল করল। তারা এদেশের কৃষকদের ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি খেলতে শুরু করল। সার চাইতে গিয়ে ১৮ জন কৃষককে গুলি খেয়ে জীবনও দিতে হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃষকের ঘরে যাতে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে, প্রত্যেক কৃষকের ঘরে খাদ্য যেন থাকে। কারণ যারা উৎপাদন করবে তারা খাবার পাবে না বা তাদের ছেলে-মেয়েরা খাদ্যে কষ্ট পাবে এটা হতে পারে না। আমরা সে ব্যবস্থাটাও সঙ্গে সঙ্গে হাতে নিয়েছি।

সাম্প্রতিক ‘হিট শকে’ ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তার ‘থোক বরাদ্দ’ রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের উৎপাদন যাতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হতে পারে- তার জন্য যথাযথ-মাটি পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে সর্ব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি গবেষণার উপর। ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, তখন থেকেই কৃষি গবেষণায় আমরা গুরুত্ব দেই। আজকে গবেষণার ফলে আরও নতুন নতুন ধরনের ফসল উৎপাদন, তরি-তরকারি, ফল-মূল ও দানাদার খাদ্যশস্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য যেন উৎপাদন হতে পারে, তার জন্য ব্যাপক হারে গবেষণা হচ্ছে এবং উন্নতমানের বীজ আমরা সরবরাহ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার ফলে আজকে কৃষক খুব অল্প কষ্টে অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারছেন, ধান উৎপাদন করতে পারছেন, গম করছেন, ভুট্টা করছেন এবং সব ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং তা বাজারজাত করার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কৃষকের ধান কাটার সমস্যা দূর করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার কথা তুলে ধরে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য সব ধরনের যন্ত্র ধীরে ধীরে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

মহামারীর কারণে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করে সবাইকে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্য-সুরক্ষার নির্দেশগুলো মেনে চলারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজেকে আপনারা সুরক্ষিত রাখুন, অপরকে সুরক্ষিত করুন। এই করোনাভাইরাসের হাত থেকে যেন দেশ ও জাতি মুক্তি পায়, তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবাই দোয়া করেন।