অপরাধ সারাদেশ

সুনাম দেবনাথ কেন আসামি নাই, সুনাম দেবনাথ হত্যার নির্দেশদাতা

হটনিউজ ডেস্ক:

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার চার্জশিটে স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথকে আসামি না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ মামলার অন্যতম আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজী। তাদের দাবি, রিফাত হত্যার মাস্টারমাইন্ড সুনাম। অথচ তাকে আসামি করা হয়নি।

মঙ্গলবার বরগুনার আদালতে তাদের হাজিরা শেষে প্রিজনভ্যানে ওঠানোর সময় এসব কথা বলে চিৎকার করতে থাকেন রিফাত ও রিশান ফরাজী। এর পর পুলিশ দ্রুত তাদের প্রিজনভ্যানে তুলে বরগুনা কারাগারে নিয়ে যায়।

‘এটা অন্যায়, এটা অবিচার। যে (রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনা) করছে সে কেন ৭ নম্বর, সুনাম দেবনাথ কেন আসামি নাই, সুনাম দেবনাথ হত্যার নির্দেশদাতা, সে কেন আসামি নাই, বাদশা হত্যার কেন বিচার নাই? এটা অবিচার, এটা অন্যায়।’

তবে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা সুনাম বলছেন, তার দুর্নাম রটাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে এই হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়ানো হচ্ছে।

গত ২৬ জুন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

মামলার ধার্য দিনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১৪ আসামিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক আসামিদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয়জনকে যশোর শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে এবং বাকিদের বরগুনা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে আদালত চত্বরে রাখা প্রিজনভ্যানে ওঠার সময় মামলার ১ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীসহ অন্য আসামিরা চিৎকার করে রিফাত হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে সুনাম দেবনাথের নাম বলে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

প্রায় ২ মিনিটের এই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিজনভ্যানে তোলার পরও আসামিরা চিৎকার করে সুনামের কথা বলে যাচ্ছিল।

গতকাল আদালত চত্বরে আসামিরা চিৎকার করে যে বক্তব্য দিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সুনাম দেবনাথ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনারা জানেন আসামিদের একটি অংশ আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। ওই প্রতিপক্ষের ছত্রচ্ছায়ায় এরা এসব অপকর্ম করে বেড়াত। তাদের শেখানো কথাই এখন আসামিরা বলে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে কেউ কোথাও আমার সম্পৃক্ত থাকার কথা বলেছে কিনা। যদি সেখানে তারা এসব না বলে থাকে, তবে এখন এমন বক্তব্যের মানে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।’

রিফাত-রিশানের চিৎকার নিয়ে সুনাম আরও বলেন, মামলার প্রধান দুই আসামি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। ওই প্রতিপক্ষের ছত্রচ্ছায়ায় এরা এসব অপকর্ম করে বেড়াত। তাদের শেখানো কথাই এখন আসামিরা বলে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির যোগসাজশের ইঙ্গিত সুনাম তার ফেসবুক পোস্টে করেছিলেন। পরে তা সরিয়েও নেন। হত্যা মামলা দায়েরের সময় সাক্ষীর তালিকায় মিন্নির নাম থাকলেও এখন তিনিও একজন আসামি।