আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর লাইফ স্টাইল সারাদেশ

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি ফেরত পাঠানো নিয়ে শুনানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অনুপ্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের পরিচয় নির্ধারণ ও প্রত্যাবাসন নিয়ে করা একটি আপিলের শুনাননিতে রাজি হয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গোগোই এবং বিচারপতি দিপক গুপ্তার নেতৃত্বাধীন ওই বেঞ্চ ২০১৭ সালে করা ওই আবেদন শোনার ব্যাপারে সম্মতি দেন। আগামী ৯ ‍জুলাই এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সময় ভারতেও আশ্রয় নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। এখনও দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

বিজেপি নেতা আশ্বিনী উপাধ্যায় তার আবেদনে ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয সরকারের অবস্থানের সমর্থন জানান। এই আবেদন অনুযায়ী সব রাজ্য সরকার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিসহ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নি করে ফেরত পাঠাবে। তিনি বলেন, বিশালসংখ্যক এই অভিবাসীদের বেশিরভাগিই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি। তারা শুধু আমাদের জনতাত্ত্বিক কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি বরং সীমান্তবর্তী শহরগুলোর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলেছে। আর এই ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

এছাড়া মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ ও মোহাম্মদ সাকির নামে দুই রোহিঙ্গার আবেদনও খারিজ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। সেখানে বলা হয় মিয়ানমারে মিয়ানমানে সহিংসতার শিকার হয়েই ভারতে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা। গত বছর ভারতে অবস্থানকারী সব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট হলে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের না তাড়ানোর রায় হয়।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাবমতে, গত বছর পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাস করছেন। তাদের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে ৭ হাজার ৯৬ জন, হায়দরাবাদে ৩ হাজার ৫৯ জন, হরিয়ানায় এক হাজার ১১৪ জন, উত্তর প্রদেশে এক হাজার ২০০ জন, দিল্লিতে এক হাজার ৬১ জন ও জয়পুরে ৪০০ জন অবস্থান করছেন।