অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর সারাদেশ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে জটিলতা

হটনিজউ ডেস্ক: মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একমত না হওয়ায় এখনও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো। মালিকপক্ষ একজন গার্মেন্টস শ্রমিককে সর্বনিম্ন বেতন দিতে চায় ৬ হাজার ৩৬০ টাকা। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৬ হাজারের দাবি থেকে সরে এসে এই মুহূর্তে দাবি করেছে ১২ হাজার ২০ টাকা। মালিকরা শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় এ নিয়ে এক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন-বিজিএমইএ কর্মকর্তারা বলছেন, এ নিয়ে কোনও জটিলতা নাই। সমাধান হয়ে যাবে। হাতে অনেক সময় আছে।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন শ্রমিকেরা। আগে তারা সর্বনিম্ন মজুরি ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এখন তারা তাদের সে অবস্থান থেকে সরে এসে দাবি করছেন ১২ হাজার ২০ টাকা। বর্তমানে একজন নতুন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের জন্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণে সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের তৃতীয় সভায় শ্রমিকদের দাবি করা ১২ হাজার ২০ টাকা নিয়ে দ্বিমত করেছে কিছু শ্রমিক সংগঠন। অন্যদিকে মজুরি বোর্ডের কাছে মালিকেরা ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করছেন ৬ হাজার ৩৬০ টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে নির্ধারণের জন্য একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসিক ১৬ হাজার টাকার পরিবর্তে ৬ হাজার ৩৬০ টাকা দিতে চায় মালিকরা। সর্বশেষ মজুরি বোর্ডের সভায় এ প্রস্তাব করেন গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এদিকে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে যখন ব্যবধান বিস্তর তখন বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব দেন। তবে শামসুন্নাহার ভূইয়ার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে থাকা শ্রমিক সংগঠনগুলো। ফলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। এদিকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ চূড়ান্ত করতে হবে, যা আগামী ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর তিন হাজার টাকা মূল বেতন ধরে পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সরকার। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ওই বেতন পেতে শুরু করেন শ্রমিকরা। এরপর গত ১৪ জানুয়ারি, শ্রম মন্ত্রণালয় স্থায়ী মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বোর্ড গঠনের আগে থেকেই ১০ হাজার টাকা মূল বেতন ধরে মোট ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বোর্ড সভায় বলেন, ‘দুই পক্ষের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ নিয়ে কিছু গবেষণার প্রয়োজন।’ তিনি জানান, ‘সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণার আগে নিয়ম অনুযায়ী কিছু কারখানা সরেজমিন ঘুরে দেখবেন মজুরি বোর্ডের সদস্যরা। আগামী তিন মাসের মধ্যে মজুরির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। যদিও বোর্ডকে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার জন্য সরকারের বেঁধে দেওয়া ছয় মাস সময় আগামী ১৮ আগস্ট শেষ হচ্ছে। বাকি কাজ শেষ করার জন্য মজুরি বোর্ড শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে আরও তিন মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করবে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি যেখানে প্রায় শতভাগ বাড়ানো হয়েছিল, এবার তা ২০ শতাংশও বাড়াতে রাজি নয় মালিকপক্ষ। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। সেই হিসেবে তাদের প্রস্তাব মতো অর্থাৎ মালিকপক্ষ দিতে চায় ৬ হাজার ৩৬০ টাকা, যা মাত্র ১৯ শতাংশের কিছু বেশি।

মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে মজুরি বোর্ড। বোর্ডের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার সেটি চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং এর পরই তা কার্যকর করা হবে। যদিও সরকার এরই মধ্যে অন্যান্য শিল্প শ্রমিকদের বেতন শতভাগ বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, ‘কোনও জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। সমাধান হয়ে যাবে। সুপারিশ প্রণয়নে এখনও পাঁচ মাস হাতে আছে। এ সুপারিশ ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে কার্যকর করতে হবে। তাই সবার আলোচনার ভিত্তিতেই একটি সুন্দর সমাধান হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই।’ তিনি জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় আমরা প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। সেই মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় ইতোপূর্বেও মজুরি কাঠামো নির্ধারণ হয়েছে। আমরা এবারও সেভাবেই প্রস্তাবনা দিয়েছি।

এদিকে বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, ‘অতিরিক্ত মজুরির জন্যে কেউ যাতে চাকরি না হারায় সে দিকটি বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সবকিছু বিবেচনা করে শ্রমিক ও মালিক উভয়পক্ষ যাতে বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’