খেলা জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর সারাদেশ

এবার সেই মালয়েশিয়ায় বিজয় নিশান

হটনিউজ ডেস্ক: এবার বাংলাদেশকে এশিয়া কাপের প্রথম শিরোপা উপহার দিয়েছে মেয়েরাই১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ১০ জুন। কোনোভাবে কি এই সময়কে একফ্রেমে বন্দি করা সম্ভব? সময়ের ব্যবধান অনেক হলেও স্থান কিন্তু সেই একই—কুয়ালালামপুর! ২১ বছর আগে মালয়েশিয়ার রাজধানীতে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিজয়গাথা। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে ইতিহাস রচনা করেছিলেন আকরাম-পাইলটরা। ছেলেদের ক্রিকেটের এগিয়ে চলার সেই শুরু। মেয়েদের ক্রিকেটের ‘টার্নিং পয়েন্টে’র সঙ্গেও কি মালয়েশিয়া জড়িয়ে গেলো? এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের শহরও যে কুয়ালালামপুর!

২০০৪ সাল থেকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) মেয়েদের এশিয়া কাপ আয়োজন করছে। প্রথম চারটি আসরে ৫০ ওভারের ক্রিকেট হলেও ২০১২ থেকে টি-টোয়েন্টির লড়াই হচ্ছে এশিয়া কাপে। টানা ছয়বার আধিপত্য বিস্তার করে শিরোপা জিতেছে ভারত। সপ্তম আসরে সেই ভারতকে হারিয়েই এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্ব সালমা-রুমানা-জাহানারাদের দখলে।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সাথিরা জাকির জেসি এমন সাফল্যে অভিভূত।তিনি বলেছেন, ‘এশিয়া কাপের শিরোপা মেয়েদের ক্রিকেটের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এর আগে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে মানুষের মধ্যে এত আগ্রহ দেখিনি। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি অভিনন্দন জানিয়েছেন। এতেই বোঝা যায় ফাইনাল নিয়ে কতটা চিন্তিত ছিলেন তারা। ছেলেরা উল্লাসের ভিডিও প্রকাশ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ পুরুষ দলের মতো মেয়েদের ক্রিকেটের সাফল্যের সূচনাও হলো কুয়ালালামপুর থেকে।’

অথচ ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মালয়েশিয়ায় পা রেখেছিল নারী ক্রিকেট দল। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আটটি ম্যাচেই হার মেনে দেশে ফেরা একটা দলের পক্ষে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো কীভাবে সম্ভব হলো? জেসির মতে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন কঠিন ছিল। ওখানে রেজাল্ট ভালো না হলেও মেয়েরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। ওই সফর মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে মেয়েদের, যা কাজে লেগেছে এশিয়া কাপে।’

ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হলেও ঘাবড়ে যায়নি সালমার দল। বরং লিগ পর্বে ভারতকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল মেয়েরা। অধিনায়ক সালমা খাতুন শিরোপা জিতে সে কথাই বলেছেন সবার আগে, ‘ফাইনালের শুরু থেকেই আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। লিগ পর্বে ভারতের বিপক্ষে জয় অনুপ্রাণিত করেছিল আমাদের। বিশ্বাস ছিল, আমরাই জিতবো।’

এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা। কিন্তু এগিয়ে যেতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সুযোগ-সুবিধা। আর কে না জানে, এদেশের ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধার দিক দিয়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা কতটা পিছিয়ে! এমনকি তাদের পারিশ্রমিকের অঙ্কও সম্মানজনক নয়। বর্তমানে ক্রিকেট সংগঠক জেসিও এক্ষেত্রে উন্নতি চান, ‘মেয়েদের বেতন কাঠামো নিয়ে অবশ্যই বিসিবির চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। তবে আমি নিশ্চিত, খুব তাড়াতাড়ি মেয়েদের বেতন বেড়ে যাবে। মনে হচ্ছে, এমন সাফল্যের পর মেয়েদের কিছু চাইতে হবে না, সব কিছু তাদের কাছে এমনিতেই চলে আসবে!’

ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় রুমানা আহমেদ দেশ ছাড়ার আগে বলেছিলেন, ‘ছেলেদের থেকে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। তবে স্বপ্ন দেখি, এক সময় আমরাও বিশ্ব ক্রিকেটে শাসন করবো, বড় দলগুলোকে নিয়মিত হারাবো। আমার বিশ্বাস, ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্রিকেটও একদিন এগিয়ে যাবে।’

বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত নিঃন্দেহে বড় দল। সেই দলকে পর পর দুই ম্যাচে হারানো সহজ কথা নয়। ছেলেরা দুবার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলেও জিততে পারেনি। অথচ প্রথমবার ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করলো মেয়েরা। যেখানে ছেলেদের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রা শুরু, সেই মালয়েশিয়ায় মেয়েদের সৌজন্যে উড়লো লাল-সবুজ পতাকা।