জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি রাজশাহী সারাদেশ

কীভাবে উন্নয়ন করতে হয় আমি জানি: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দাবি করার প্রয়োজন নেই। আমি জানি দেশের উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়।

রাজশাহীর উন্নয়নে যা যা করা দরকার সব করা হবে। রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, হাইটেক পার্ক করছি, পদ্মার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামীতে আরও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর হরিয়ান চিনিকল মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা ৩৫ মিনিটে ভাষণ শুরু করে ৪ টা ৫ মিনিটে শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। ৩০ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে রাজশাহীর উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারাদেশের উন্নয়নের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিক উন্নয়নে কারও দাবি করার প্রয়োজন নাই। আমি জাতির পিতার মেয়ে, আমি জানি দেশের উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হয়। সেই উন্নয়নের ধারা এখন অব্যাহত আছে। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতি আর বিদেশে টাকা পাচার করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত থাকলে তারা কী করেছে? খুন-খারাবি আর দুর্নীতি, মানি লণ্ডারিং, টাকা পাচার। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ দেশের উন্নয়ন করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। ২০১৪-এর নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করেছি বলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে।’

‘জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন কেন? করেছিলেন একটাই কারণে, একটাই লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত। প্রত্যেকটা মানুষ খাদ্য পাবে, বাসস্থান পাবে, চিকিৎসা পাবে, শিক্ষা পাবে, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে। এটাই ছিল তার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি, আপনাদের জন্য কী এনেছি-খালি হাতে আসিনি। আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি, কিছুক্ষণ আগে আপনারা জানেন, অনেকগুলো প্রকল্প উদ্বোধন করেছি, অনেকগুলো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি, যাতে রাজশাহীর সার্বিক উন্নতি হয়।’

আওয়ামী লীগের নিহত নেতাদের স্মরণ করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে রাজশাহীতে এসে এই বিএনপি-জামায়াত জোট ওই বাংলাভাই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী, তাদের হাতে যারা জীবন দিয়েছে আমি তাদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি, জোট সরকারের সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আলো খন্দকার, আজহার মেম্বর, শফিকুল ইসলাম, আবদুল বাকি, সাদেক আলী, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মালেক, হযরত আলী মণ্ডল, পারভেজ, দুলু, নাহিদ পারভেজ আরজু, সৈয়দ আলী, আনিসুর রহমান, নরেষ চন্দ্র, ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবিব বাবু ফিরোজ আলীসহ রাজশাহীতে তখন যারা শহীদ হয়েছে তাদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. ইউনুস, ড. তাহেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’

‘বিএনপি জামায়াত জোট যে জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, সেখানে তাদের হাতে বিএনপি-জামায়াত আরো হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ, রবিউল ইসলাম রবি, যুবলীগের শামসুল আলম, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট শাহীন আলম ও আসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমনকি যুবলীগের আনোয়ারুল ইসলাম আনারকে শিবিররা হাতপায়ের রগ কেটে দিয়ে হত্যা করে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১০ সালে শিবিরের ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ফারুক, তাকে হত্যা করে ডাস্টবিনের মধ্যে ভরে রাখে। এমনকি জেএমবি-বাংলাভাই এসে আবদুল কাউয়ুম বাদশাকে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। আওয়ামী লীগের ইয়াসির আলী, খেজুর আলী, রব্বানী বকুলকে হত্যা করে। সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। দুজন সংসদ সদস্য, এ এস এম কিবরিয়া এবং আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করে। এমনকি আমাদের এই সারা বাংলাদেশের ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করে।’

জনসভায় বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাছিম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান চিনিকল মাঠে জনসভায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।