জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি রাজশাহী সিলেট

দুই মেয়র আদালতের নির্দেশে কার্যালয়ে গিয়ে ফের বরখাস্ত

 রাজশাহী ও সিলেট প্রতিনিধি: রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের দুই মেয়রকে ফের বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ হাতে নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে গিয়েছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাদের হাতে বরখাস্তের চিঠি আসে।

রাসিক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রবিবার সকালে দায়িত্ব বুঝে নিতে গিয়ে দেখেন তার কার্যালয় তালাবদ্ধ। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কার্যালয়ে প্রবেশে সঙ্গে সঙ্গেই বরখাস্তের চিঠি পান তিনি। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে তাকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বুলবুল দাবি করেছেন, ‘আদালতের রায় তার পক্ষে। তিনি কার্যালয় ছাড়বেন না।’

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম শরিফউদ্দিন জানিয়েছেন, বরখাস্ত করা না করার বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বুলবুলকে কার্যালয় ব্যবহার করতে দেবেন তিনি।

এর আগে মেয়রের কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর প্রসঙ্গে এবিএম শরিফউদ্দিন জানান, ‘কে বা কারা এই কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা অবগত নই।’ বেলা দেড়টার দিকে শরিফউদ্দিনের নির্দেশেই মেয়রের কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে ওয়ার্ড সচিব আঙ্গুর ও সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক রুমের ভেতর ঢুকে কী কী সরঞ্জাম আছে তা পরীক্ষা করেন। এরপর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বুলবুল। এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আসা চিঠি পাঠানোর বিষয়টি জানাজানি হয়। উপসচিব আনোয়ার পাশার স্বাক্ষর রয়েছে চিঠিতে।
উল্লেখ্য মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকারের মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আদেশ অবৈধ বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। ফলে মেয়র পদে ফিরতে কোনও বাধা না থাকায় দায়িত্ব বুঝে নিতে যান মেয়র বুলবুল। ২০ দলীয় জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে নাশকতার চার মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্রের পর  বুলবুলকে ২০১৫ সালের ৭ মে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন বুলবুল। হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশটিকে অবৈধ বলে রায় দেন। পরে এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

এদিকে আইনি লড়াইয়ে জিতে রবিবার সকাল ১১টায় মেয়রের চেয়ারে বসেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। চেয়ারে বসার তিন ঘণ্টার মাথায় হাতে পান তাকে বরখাস্তের চিঠি।  সিলেট নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘সিটি করপোরেশন অ্যাক্ট’ বিষয়ক উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম ফ্যাক্সে বরখাস্তের ওই চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা-৪/২০০৯ এর সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ আদালতে গৃহীত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ২০০৯ এর ১২ উপধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

২৭ মাস পর সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দায়িত্ব পুনরায় বুঝে নিতে রবিবার (২ মার্চ) সকাল ১১টায় অফিসে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নগরীর তোপখানা অস্থায়ী কার্যালয়ে মেয়রের কক্ষেও বসেন। সকাল ১০টার দিকে আরিফুল হক বিএনপি ঘরনার কাউন্সিলর ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন করে নগর ভবনে প্রবেশ করেন। এসময় সিসিক-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

২০১৩ সালের ১৫ জুন সিসিক মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক। অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আসামি হওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তাকে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে আরিফের নাম সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দুই বছর ৫ দিন কারাভোগের ৩ জানুয়ারি সবকয়টি মামলায় জামিনে মুক্ত হন তিনি। গত ১৩ মার্চ আরিফের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে গত ২৩ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশই বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।