জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী অনুতপ্ত!

হটনিউজ ডেস্ক: পদ্মা সেতু ইস্যুতে তদানীন্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ দেওয়া এবং যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় অনুতাপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা উঠে এলে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় এই অনুভূতি প্রকাশ করেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শুরুতেই অনির্ধারিত আলোচনায় পদ্মা সেতুর বিষয়টি উঠে আসে।

গত শুক্রবার কানাডার একটি গণমাধ্যমে পদ্মা সেতু বিষয়ক রায়টির খবর প্রথম প্রকাশিত হয়, দ্রুতই তা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।ওই রায়ে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে ‘অনুমানভিত্তিক’, ‘গুজব’ ও ‘গালগপ্পো’ হিসেবে চিহ্নিত করে মামলাটি খারিজের ঘোষণা দেন বিচারক।এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুকে ঘিরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যত ধরনের সংশয় ও সন্দেহ ছিল তা দূর হয়ে যায়। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংক অভিযোগ তোলার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুকে ঘিরে কোনও দুর্নীতি হয়নি দাবি করে সবাইকে বিষয়টি প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত কানাডার আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয় প্রধানমন্ত্রী ‘সঠিক’ ছিলেন। তার এই দৃঢ়তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয় মন্ত্রিসভার অনির্ধারিত আলোচনায়।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরুর প্রাক্কালেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কানাডার আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। এ সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেই দিন প্রধানমন্ত্রী  “পদ্মা সেতুতে কোনও দুর্নীতি হয়নি এবং বিশ্বব্যাংককে এই অভিযোগ প্রমান করতে হবে” বলে যে চ্যালেঞ্জ ও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই দৃঢ়তাই আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করেছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

অভিনন্দনের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকার জন্য তদানীন্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির কাছে গিয়ে ধর্ণা দিয়েছিলেন। ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে রাখার জন্য হিলারি আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি হিলারিকে বলেছি, ৬০ বছরের অধিক বয়সের কারোরই গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকার সুযোগ নাই। ওনার তো ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে। হিলারীকে দিয়ে ফোন করানোর পরও গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকতে না পেরে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আর ক্ষুব্ধ হয়েই পদ্মা সেতু ইস্যুতে আমাদের হেয় করার চেষ্টা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমার ছেলে মেয়েকে ইউএসএ’র হোম অফিসে ডেকে নিয়েছিল। মোশাররফকে (সাবেক যোগাযোগ সচিব, বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব) জেলে যেতে হয়েছিলো। ওই সময় আমাদের অর্থমন্ত্রী ও আমার অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা দুজনেই আমাকে বলেছিলেন, একে বাদ দেন, ওকে জেলে দেন। সব হয়ে যাবে। এভাবেই তারা একের পর এক শর্ত জুড়ে দিতে লাগলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনায় সেই সময়কার যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে জেলে দিতে হয়েছিল। এসব ঘটনা ছিল দুঃখজনক। এসব ঘটনা তাদেরকে সমাজে হেয় করেছে। তবে আজ সত্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে কোনও দুর্নীতি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যের প্রমাণ একদিন ঠিকই বেরিয়ে আসে। সত্যের পক্ষে থাকলে একদিন তা ঠিকই প্রমান হয়। যখন অভিযোগ করা হলো, তখনতো তারা টাকাই দেয় নাই। তাহলে দুর্নীতি করলো কিভাবে? সেদিন তাদের কথায় আমাকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ওই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়তো ঠিক হয় নাই। মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া, সচিবকে জেলে দেওয়া। এতে তারা সমাজে হেয় হয়েছিলেন।