কৃষি জাতীয় দিনাজপুর প্রধান খবর রংপুর

চিরিরবন্দরে ১০ কেজি আলুর দামে ১ কেজি চাল

মোহাম্মাদ.মানিক হোসেন চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ লাভের আশায় আগাম জাতের আলু চাষ করেও লোকসান গুনছেন চিরিরবন্দরের আলু চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম থাকলেও এখন প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪-৫ টাকা কেজি দরে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন আলু চাষি  কৃষকরা।

চলতি বছর চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৯ শত ৫০’হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর উপজেলায় আলুর চাষ হয়েছে ৩ হাজার  ৮ শত ২০ হেক্টর জমিতে। যার ফলনের মাত্রা ৬৩,০০০ মেট্রিক টন।

বিশেষ করে ইরি-বোরো ধান উৎপাদনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রান্তিক চাষিরা কিছুটা বাধ্য হয়েই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আলু,রসুন, সরিষা, গম ও ভুট্টা চাষে অতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলার সদর, ভিয়েল, সাইতীড়া, ফতেজংপুর, সাতনালা, তেতুঁলিয়া, আউডিলয়াপুকুর, ইসবপুর, আলোকডিহি ও পুন্ট্রি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।মওসুমের শুরুতে বাজারে প্রতিকেজি আলু ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। ক্রমান্বয়ে আলুর দাম কমতে কমতে ১৫-২০ টাকায় পৌঁছায়। এদিকে গত এক সপ্তাহ থেকে সে দাম আরো কমে ৪-৫ টাকায় এসে পৌঁছেছে।

গছাহার  গ্রাামের কৃষক আরিফ হোসেন জানান, তিনি এবার এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেন। উৎপাদনও হয়েছে বেশ ভাল। কিন্তু আলু হতে দেরি হওয়ায় তিনি এখন মহাবিপদে পড়েছেন। বাজারে আলুর দাম না থাকায় না পারছেন এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে, না পারছেন আলু মজুদ করতে।

অপরদিকে উপজেলার সাতনালা নালীপাড়া গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, আমি গরিব কৃষক মানুষ। দাওয়াত খেয়ে আত্মীয় পরিবারকে ৪ বস্তা আলুর টাকা দিলেও সম্মান রক্ষা করা কঠিন। সাদা আলু ১০  কেজি বিক্রি করে ১ কেজি চালের দাম হয়।

উপজেলার জোত সাতনালা গ্রামের রাজু আহমেদ বলেন, প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে ৮-৯ টাকা। অথচ সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৪-৫ টাকা দরে। প্রতি কেজিতে ৩-৪ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বিগত বছরের তুলনায় চিরিরবন্দরে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে উপজেলায় কৃষকদের আলু চাষের উৎসাহ কমে যাবে।